চট্টগ্রামের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৫, ০০:৫৩

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরউদ্দীন। এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী। তার নির্বাচনী প্রতীক হাতি। এতো ব্যস্ততার মাঝেও গতকাল মঙ্গলবার সকালে আন্দরকিল্লায় নিজ বাসভবনে মুখোমুখি হয়েছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে। একান্ত সেই আলাপচারিতায় জানালেন চট্টগ্রাম শহর নিয়ে তার ভাবনার কথা, পরিকল্পনার কথা। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন আসিফুর রহমান সাগর

 
ইত্তেফাক: তরুণ নাছিরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রবীণ মনজুর। ভোটাররা আপনাকে ভোট দেবে কেন?
 
নাছির: দলমত নির্বিশেষে চট্টগ্রামের উন্নতির জন্য আমাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি যখন যে কাজটি করতে চেয়েছি তা সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি। নগরবাসীর কাছে তাই আমি একটা সুযোগ চাইছি। যদি নির্বাচিত হই তবে চট্টগ্রামের উন্নতিই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
 
ইত্তেফাক : আপনি কেন নিজেকে যোগ্য প্রার্থী মনে করছেন?
 
নাছির: মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা যাদের রয়েছে তারাই আমাকে নির্বাচিত করবেন। কেননা পুরনো নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে। মহিউদ্দিন চৌধুরী যে উন্নয়ন শুরু করেছিলেন সেই উন্নয়নের ধারাকে মনজুর আলম এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। তাছাড়া আমি দলের কর্মী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেছেন আমি প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখি। আমি তার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে লড়ছি।
 
ইত্তেফাক: মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র ছিলেন, পরে মনজুর আলম। কিন্তু চট্টগ্রামের দুঃখ ‘জলাবদ্ধতা’ কাটছে না। সবাই এই সমস্যা সমাধানের কথা বলে কিন্তু সমাধান করতে পারছে না কেন?
 
নাছির: কারো ‘ভিশন’ নেই, সেই জন্য। নির্বাচিত হলে ‘জলাবদ্ধতা’ দূর করাই হবে আমার প্রধানতম কাজ। পরিকল্পিত নগরায়ন, শহরের খালগুলোকে কার্যকর করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তা-ঘাটের উন্নতি এবং পরিচ্ছন্ন শহর গড়াই হবে আমার লক্ষ্য। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর, নয়নাভিরাম শহর ছিল। কিন্তু নেতৃত্বের মাঝে পরিকল্পনা না থাকায় সেই সুন্দর চট্টলা আজ নেই। সেই শহরকে ফিরিয়ে আনাই হবে আবার প্রধান লক্ষ্য। আপনারা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন, নগরের শিক্ষা খাতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সকল উদ্যোগকে মনজুর আলম বন্ধ করে দিয়েছেন। বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা বন্ধ। সাধারণ নাগরিক সেবাও নগরীর মানুষ পাচ্ছে না। সে কারণেই আমি চট্টগ্রামবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি আমাকে ভোট দেয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রামের উন্নয়নের যে সদিচ্ছা রয়েছে মনজুর আলমের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
 
ইত্তেফাক: যদি মেয়র নির্বাচিত হন কি হবে আপনার প্রধান লক্ষ্য?
 
নাছির: অবহেলিত চট্টগ্রামের উন্নয়ন হবে আমার মূল লক্ষ্য। বাণিজ্যিক রাজধানীকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেয়াই হবে আমার লক্ষ্য। আমি আন্দরকিল্লার বাসিন্দা। পূর্বপুরুষরা চট্টগ্রামের প্রাচীন এই স্থানেই বসবাস শুরু করেছিলেন। চট্টগ্রামের আদিবাসী হিসাবে নগরের মানুষের কাছে একটাই প্রার্থনা জানাই আমাকে নির্বাচিত করলে চট্টগ্রামবাসী ভুল করবেন না। তাদের কাছে দেয়া ওয়াদা আমি পালন করবো।
 
ইত্তেফাক : মনজুর আলম কেন ব্যর্থ বলে মনে করেন আপনি?
 
নাছির: জলাবদ্ধতাসহ নাগরিক সমস্যা যেমন তিনি মেটাতে পারেননি, তেমনি শুধু ট্যাক্স বাড়িয়েছেন। কিন্তু নাগরিকদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি কিংবা কোনো সুযোগ-সুবিধা বাড়াননি। ট্যাক্সের টাকায় নগরের অবকাঠামোগত উন্নয়নও করেননি তিনি। সদিচ্ছা থাকলে ট্যাক্স না বাড়িয়েও নগরীর উন্নয়ন করা যায়। আমি নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করা হবে। চট্টগ্রাম মহানগরকে ব্যবসাবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে। কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হবে না।
 
ইত্তেফাক: চট্টগ্রামের ক্রীড়া সেক্টরের উন্নয়নে আপনি তো নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন?
 
নাছির: জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম, ক্রীড়া সংস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছি। সেটা আমার দায়িত্বের অংশ বলেই করেছি। নাম কামানোর জন্য করিনি। যখন যে দায়িত্ব পেয়েছি সেটা ঠিকমত করার চেষ্টা করেছি। রাজনীতি করেছি, কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাই করেছি সারাজীবন। একটা সময় থিয়েটার করতাম। সেই টান থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে ডিসি হিলকে ঘিরে সাংস্কৃতিক বলয় করার পরিকল্পনাও করেছি। অচিরেই সেটা বাস্তবায়িত হবে। আমি কখনোই কোন কাজকে গুরুত্বহীন ভাবিনি। সে জন্যেই নগরের মানুষ আমার পাশে রয়েছেন।
 
ইত্তেফাক: কিন্তু দলে তো কিছু অন্তর্কলহ রয়েছে। সেসব কি আপনাকে পিছিয়ে দিচ্ছে না?
 

নাছির: ইত্তেফাকের মাধ্যমে দলের সবাইকে বলতে চাই, আমার অতীত দেখুন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমি কিছু করিনি। সিনিয়রদের সম্মান দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পালন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা সবাই মিলেই দল। সবাই মিলে নির্বাচন করছি, সবাই মিলেই আগামীতে কাজ করবো। এখন ভেদাভেদের সময় নয়। দলের প্রতিটি সদস্য নির্বাচনে কাজ করছেন। এটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি।