আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নাগরিক কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বুধবার সর্বস্তরের মানুষের এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
ইশতেহারে তিনি ৬০ লাখ চট্টগ্রাম মহানগরীবাসীকে সেবার সুযোগ দানের জন্য সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি তাদের রায় প্রত্যাশা করে বলেন, গ্রিন মেগাসিটির স্বপ্নকে সামনে রেখে জলাবদ্ধতামুক্ত জনবান্ধব চট্টগ্রাম তিনি গড়ে তুলতে চান।
আর এই লক্ষ্যে ‘কোনো প্রেশার গ্রুপের স্বার্থ হাসিলে নতি স্বীকার নয়, সাধারণ মানুষের হকের টাকা সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে ব্যয় করাই আমাদের লক্ষ্য। তা করতে হলে নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় আনতে হবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।’
চট্টগ্রাম ইজ্ঞিনিয়ার ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইশতেহার ঘোষণায় নাছির ৩২ পৃষ্ঠার মুদ্রিত ইশতেহার উপস্থাপন করেন।
চট্টগ্রাম মহানগীর সার্বিক এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়নে তার ৩৬টি কর্মপরিকল্পনার বিশদ বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়েছেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যেমেই গত ৫ বছরে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ অনুমোদিত হয়। বহু ব্যয়বহুল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামে তার একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে আমাকে মেয়র পদে সমর্থন করেছেন। আমি নির্বাচিত হলেই চট্টগ্রামকে ঘিরে সরকারের যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা তা আরো পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হবে।’
চট্টগ্রাম মহানগরীকে নান্দনিক, জনবান্ধব, যানজটমুক্ত, জলাবদ্ধতামুক্ত ও দূষণমুক্ত নগরে পরিণত করতে সকল মহলের সাথে আলাপ আলোচনা, যুক্তি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ইশতেহারে উল্লেখিত তার ৩৬টি কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, পরিচ্ছন্নতা, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপত্তা প্রনয়ন, পাহাড় রক্ষা, শিক্ষার প্রসার, পানির দূষণ রোধ, পনি সঙ্কট নিরসন, জলাধার রক্ষা, কর্ণফুলী সুরক্ষা, এতিমদের সহায়তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সকল মানুষের সমন্বয়ে সামাজিক সমপ্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি, ধর্মীয় কাজে সুবিধা বৃদ্ধি, আবাসন সঙ্কট নিরসন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, শ্রমিকস্বার্থ রক্ষা, ক্রীড়া ও বিনোদনের উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞ, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, নারীর কর্মসংস্থান, ভিক্ষাবৃত্তি বিমোচন, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, পাবলিক টয়লেট সুবিধার প্রসার, কৃষিখাতে প্রণোদনা ইত্যাদি।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, সাবেক হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস সহিদ এমপি, ডা. আফসারুল আমিন এমপি, প্রবীণ রাজনীতিক ও নাগরিক কমিটি চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসহাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
