গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড়ে শতাধিক স্কুলসহ সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে দুই দফায় এই ঝড় হয়।
ঝড়ে সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গংগানারায়নপুর গ্রামে গাছ চাপায় নবাব আলী ম্লল (৬০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। নিহত নবাব আলী ওই গ্রামের মৃত জহুর আলী মন্ডলের ছেলে।
এছাড়া গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, গোবন্দিগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। জেলায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে।
ঝড়ে গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক লাইনে পড়ায় মঙ্গলবার রাত ১০ টা থেকে বুধবার বিকাল ৬ টা পর্যন্ত গোটা গাইবান্ধা শহরে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ আছে। ঝড়ের সাথে প্রচুর বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে উঠতি বোরো ধান বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একারণে জেলা শহর থেকে চারটি দৈনিক পত্রিকার একটিও বুধবার প্রকাশ করতে পারে নাই।
সাদুল্লাপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি আই ও) মনিরুজ্জামান মনির জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টা ও সোয়া ১২টা দিকে উপজেলায় দুই দফায় বৃষ্টি ও ঝড়-বাতাস হয়। ঝড়ে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে কয়েকশত ঘর-বাড়ি ও গাছপালা উপড়ে পরে গিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
জেলা ত্রান ও পূর্ণবাসন অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, এখনও তাদের কাছে ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান আসেনি। মাঠে কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম জানান, প্রচ্ল ঝড় ও বৃষ্টিতে উঠতি বোরো ধান জমিতে শুয়ে পড়েছে। কলা ও ভুট্টা ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। কিন্তু তাদের কাছে সঠিক তথ্য নাই।
গাইবান্ধা বিদ্যুত্ বিভাগের নির্বাহি প্রকৌশলী জুলকার নাইন শফি জানান, ঝড়ে গাছ পরে গাইবান্ধা -পলাশবাড়ী সড়কের বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইন বিধ্বস্ত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কখন বিদ্যুত্ সরবরাহ চালু হবে সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
