রংপুরে স্কুলছাত্রী মাসুদা আক্তার মনিকে (১৪) এসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেয়ার ঘটনায় ১ জনকে ফাঁসি এবং ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। মামলার রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ জনের সম্পত্তি বিক্রি করে এসিডদগ্ধ ছাত্রীকে ৩ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে রায়ে অপর ২ আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিত ওই রায় প্রদান করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এসিডদগ্ধ মাসুদাসহ তার পরিবারের সদস্যরা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন আরিফুল ইসলাম। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আলাল ও দুলাল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরীর বাবুখাঁ এলাকার মৃত মহুবুল ইসলামের কন্যা সমাজকল্যাণ বিদ্যাবীথি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী মাসুদা আক্তার মনিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেনের পুত্র আরিফুল ইসলাম। কিন্তু মাসুদা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন ২০১২ সালের ১৩ আগস্ট আরিফুল তার সহযোগীদের নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে মাসুদার মুখে এসিড ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এসিডে মাসুদার মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং তার মা সুলেখা বেগমের বুকের বাম পাশ ঝলসে যায়। এ ঘটনায় মাসুদা আক্তার মনির বড় ভাই মাজেদুর রহমান সোহেল বাদী হয়ে বখাটে আরিফুল, তার সহযোগী আলাল, দুলাল ও একই এলাকার শফিকুলের পুত্র আরিফিনকে আসামি করে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ৫ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। প্রায় আড়াই বছর মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর গতকাল ঘটনার মূল হোতা আরিফুল ইসলামকে ফাঁসি এবং আলাল ও দুলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রদান করা হয়। এছাড়া আসামি আরিফিন ও সাদ্দামকে মামলা থেকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আব্দুল মালেক এবং আসামি পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন মামলা পরিচালনা করেন।
