এদেশে কেউ রাজতন্ত্র চায় না : ড. কামাল

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ০০:৩৮

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ অভিযোগ তুলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন বলেছেন, এ দেশের কোনো মানুষ রাজতন্ত্র চায় না। ‘ভুল কথা বলে অসত্যের ওপর ভর’ করে দেশ পরিচালনা করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় কামাল হোসেন বলেন, “যখন আমি দেখি, মানুষ কিছুটা অসহায় বোধ করছে। কেন বোধ করছে? সরকার তাদেরকে মালিক হিসেবে যেটা শ্রদ্ধা করার কথা, তাদের জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা-এটা করছে না। জনগণ যেটা বলছে তার উল্টোটা তারা করছে। “অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন ছিল জনগণের দাবি। ২৯ তারিখ (ডিসেম্বর) রাতে কী হলো? সেটা কি অবাধ ছিল, নিরপেক্ষ ছিল, নির্বাচন ছিল, কী ছিলো সেটা? আমি তো খুঁজেই পাচ্ছি না যে কী হল সেদিন? পরের দিন বলা হলো যে, এবার ধন্যবাদ ধন্যবাদ আমাদের তো পাঁচ বছর হয়ে গেল, আরও পাঁচ বছর থাকব।”

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “এখানে কেউ রাজতন্ত্র চায় না। জনগণের মধ্যে যাচাই করে দেখেন, এখানে কাউকে রাজা-রানী ঘোষণা করতে চায়? যিনি নিজে রাজা-রানী হতে চান এটা তারা করতে পারেন কিন্তু তারা প্রকাশ্যে বলবেন না।“কেন বলবেন না? কারণ জনগণের কাছে এটা একদমই গ্রহণযোগ্য না। বাংলাদেশের একটা বৈশিষ্ট্য আছে- এখানে কোনোভাবে এদেশের জনগণ রাজা-রানীকে মানার জাতি না।” সামরিক শাসক এরশাদের পতনের কথা তুলে ধরে গণফোরাম সভাপতি বলেন, “একাত্তরের পরেও যেমন স্বৈরাচারকে হটানো হয়েছে। ‘২ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তত্কালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রব প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ পথে এই সরকার যাবে না। সোজা আঙ্গুলে ঘি ওঠে না, স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদ যায় না, তারা লজ্জা পায় না। তাকে বিদায় করতে হবে। জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে পাকিস্তানি হানাদারদের বিদায় করেছে, আজকেও এই স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদ সিভিল ডিক্টেটরকে সেইভাবেই বিদায় করতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বলেন, “সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণের ভোটের অধিকার লুট করে নিয়ে গেছে ২৯ তারিখ রাতেই। মানুষ কী করেছে? তারা ঘৃণায় ওদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, ওদের দিকে এখন তাকাতেও চায় না।

জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ গোফরানের সভাপতিত্বে ও প্রেসিডিয়াম সদস্য শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপির আবদুস সালাম, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, সিরাজ মিয়া, মোশাররফ হোসেন, বিকল্পধারার শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় রবের স্ত্রী তানিয়া রবসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।