চিলির দক্ষিণাঞ্চলের কালবাকো আগ্নেয়গিরি থেকে বুধবার অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০ বছর সুপ্ত থাকার পর বুধবার সকালে আগ্নেয়গিরিটি উদগিরণ শুরু করে। জ্বালামুখ দিয়ে বের হওয়া ছাইয়ের স্তম্ভ আকাশে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে গেছে। পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
আগ্নেয়গিরিটির পার্শ্ববর্তী বন্দর নগরী পুয়ের্তো মন্টের আকাশ ইতিমধ্যে কালো মেঘে ঢেকে গেছে। নগরীর মেয়র গার্ভয় পারেদেস পরিস্থিতিকে জটিল আখ্যা দিয়ে বলেন, 'লোকজন খুবই ভয়ের মধ্যে রয়েছেন।' তিনি আরো জানান, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বরফ গলে যাওয়ায় ব্লানকো নদী উপচে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানী সান্টিয়াগো থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দক্ষিণের ওই আগ্নেয়গিরিটির পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
আগ্নেয়গিরির চারপাশের ২০ কিলোমিটার এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ারও নির্দেশ জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। লানকুইহু প্রদেশ ও পুয়ের্তো অকটাই শহরের সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিতে ওই এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সেনা পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশ আর্জেন্টিনায়ও জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার বারিলচি শহর আগ্নেয়গিরি থেকে ১শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই নগরীতে ছাইভস্ম এসে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানকার স্থানীয়দের ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কালবাকোর জ্বালামুখ দিয়ে ছাই নির্গত হওয়ার কারণে দেশটিতে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ওই এলাকায় স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, পুয়ের্তো মন্ট নগরীতে রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং গ্যাস স্টেশনগুলোতে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে গেছে।
চিলিতে ৯০ টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে কালবাকোকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করা হয়।
