কেউ কেউ শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠনে বাধা দিচ্ছে: বার্নিকাট

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৫, ২২:১৪
 
গার্মেন্টস শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে নানামুখী বাধা ও হুমকি আসছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ অসদুপায় অবলম্বন করে শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠনে বাধা দিচ্ছে। হুমকি প্রদান এমকি পেটানো হয়েছে। এমনকি এ সব বিষয় নিয়ে কারখানার ব্যবস্থাপকদের সাথে কথা বলতে চাইলেও তা শোনা হয় না। উল্টো তাদের বরখাস্ত করা হয়। এ সব কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় হলেও সরকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ধীরে এগিয়েছে অথবা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে।’
 
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও শ্রম মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশের পোশাকের ক্রেতা দেশের রাষ্ট্রদূত, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধি, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধির এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বক্তব্য দেন।
 
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘দুই বছর আগে রানা প্লাজা ধসে যারা মারা গিয়েছিলেন, তাদের জীবন দেয়ার একমাত্র কারণ অনিরাপদ ভবন নয়। বরং ওই সব শ্রমিকের ইচ্ছা প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকাও ছিল অন্যতম কারণ।’
 
বার্নিকাট বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোক্তাদের কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়। সম্ভবত শ্রম মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শকগণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শ্রমিকদের বিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ভীত শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়ে তখন স্বীকার করতে পারেননি।’
 
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা গত দুই বছরে গার্মেন্টসের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আরো অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের হার বাড়া, ২ শতাধিক শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ হওয়া, শ্রম আইনের সংশোধন, কারখানা পদিরর্শন প্রক্রিয়া চলমান থাকা, অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন আওতার বাইরের কারখানা জাতীয় ত্রিপক্ষীয় কমিটির (এনটিপিএ) মাধ্যমে চলমান থাকা, শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগসহ বেশকিছু কাজের প্রশংসা করা হয়।
 
তবে দ্রুত শ্রম আইনের বিধি চূড়ান্ত করা, ট্রেড ইউনিয়বিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, রানা প্লাজার পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে প্রদান করা, আহত শ্রমিকদের দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া, তাদের কমসংস্থানের ব্যবস্থা করার উপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তারা।
 
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, বিজিএমইএ সভাপতি, শ্রমিক নেতা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র, বাণিজ্য সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন ছাড়াও ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনোয়া পিয়েরে লাঘামে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন পিয়েরে মায়াদুন, আইএলওর সহকারী মহাপরিচালক তোমোকো নিশিমতো, নেদারল্যান্ড দূতাবাসের চাজ্য দ্য অ্যাফেয়ার্স মার্টিন ভন হুগসট্রেটেন, শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কমিটি ফর ওয়ারর্কার এডুকেশন এর চেয়ারপার্সন আব্দুল মুকিত খান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি তপন চৌধুরী, শ্রমিক নেতা শুক্কুর মাহমুদ প্রমুখ।