রিটার্নিং অফিসার ডাকামাত্র সৈন্যরা চলে আসবে: প্রধান নির্বাচন কমিশনার

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৫, ০০:১৮

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী সেনানিবাসে থাকবে। প্রয়োজনে রিটার্নিং অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী মাঠে নামবে। এদিকে বিএনপি দাবি করেছে, সরকারের চাপে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন। মির্জা আব্বাসের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ বলেছেন, ‘এটি হলো শুভংকরের ফাঁকি। সিইসি ভোটারদের ধোঁকা দিয়েছেন।’

 
তিন সিটিতে এক ব্যাটালিয়ন করে চারদিনের জন্য স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইসি। এরপর ২৬ এপ্রিল থেকে সেনা মোতায়েনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ       বলেছিলেন, ভোটারদের মানসিক স্বস্তির জন্য সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। একদিন পরেই আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে কমিশন।
 
বুধবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২৬ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে সেনানিবাসের (ক্যান্টনমেন্ট) অভ্যন্তরে সেনা সদস্যদের অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন বলে ইসির সংশোধিত চিঠিতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে জানানো হয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. সামসুল আলম স্বাক্ষরিত সংশোধিত চিঠিতে একথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিজে সেনানিবাসে চিঠিটি পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানান। মঙ্গলবারের তারিখে সংশোধিত চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।
 
ইসির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সেনাবাহিনী সব সময় রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকে। এবারো তাই থাকছে। ঢাকা সিটির এমনই অবস্থানে যেখানে ক্যান্টনমেন্ট সেন্ট্রালি লোকেটেড। উত্তরে যেতে হলেও বেটার আবার দক্ষিণে যেতে হলেও বেটার। আমরা মনে করেছি ক্যান্টনমেন্ট তাদের জন্য বেস্ট পজিশন। রিটার্নিং অফিসার ডাকা মাত্র তারা চলে আসবে। ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে, আপনারা দেখবেন কোনো সমস্যা নেই। গতকাল সন্ধ্যায় ইসির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
 
সংশোধিত চিঠির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আমরা যে গেজেট করেছি ভোটকেন্দ্রের জন্য, তাতে অনেক লম্বা নাম থাকে, জিস্ট আছে, ভুল-ত্রুটি থাকে। সেগুলো আমরা শুদ্ধ করি। প্রতিস্থাপিত করি। সেনাবাহিনী কোথায় থাকবে চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে দেয়া ছিল না। এর আগে বিকালে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশি সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তা ছাড়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, তাই সেনা টহল আপাতত দরকার হবে না।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আজকেও বলছি, আমাদের যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, সবাই মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীকে রিজার্ভ হিসাবে রেখেছি। রিটার্নিং অফিসার ডাকলে তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে। চট্টগ্রামেও একইভাবে সেনাবাহিনী থাকবে। কোনো সমস্যা হবে না।’
 

ইসির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রসঙ্গে হান্নান শাহ আরো বলেন, ‘ঢাকা সিটিতে ভোটযুদ্ধ হবে। কাজেই ক্যান্টনমেন্টে সেনা সদস্য রেখে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত হতে পারে না।’