নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রচারণার তেজ ততই বাড়ছে। কিন্তু এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুগুলোই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল ধারার কাছে হরতাল-অবরোধ ও পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যাই মূল ইস্যু হিসাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটারদের তারা এই রকম হত্যাযজ্ঞ যারা চালিয়েছে তাদের ভোট না দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে অবৈধ বলে এর বিপক্ষে রায় দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে ভোটারদের। বলছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা। তাই কাগজে কলমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রকৃতপক্ষে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুর মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে। এদিকে, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা বিএনপি শিবিরে অস্বস্তি ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার অনেক ওয়ার্ডেই পোলিং এজেন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে প্রার্থীদের জন্য।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ ঘিরে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে। ভিআইপি কেন্দ্রীয় নেতাদের পদভারে মুখর চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের গন্ডি ছাপিয়ে সারাদেশে তাদের কথা উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ভোটারদের পক্ষে টানতে দুই শিবিরেই নেয়া হচ্ছে নানামুখী কৌশল। কিন্তু ভোটারদের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে স্থানীয় সমস্যাগুলোই। তাদের প্রশ্ন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাদের এলাকার সমস্যা দূর করবেন তো? জলাবদ্ধতা, জ্যাম, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ, ধুুলা, আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক এলাকার সীমারেখা না থাকা এসব ইস্যুতে কথা বলছেন ভোটাররা। ভোটারদের প্রশ্ন, নতুন নগরপিতা এসব সমস্যা সমাধানে কি পদক্ষেপ রাখবেন? তাই মেয়র প্রার্থীর মাঝে এসব কাজ করার যোগ্যতা রয়েছে কিনা তাই খতিয়ে দেখছেন ভোটাররা। তাই আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বন্দ্বমুখর অবস্থান ছাপিয়ে এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তাই মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে নাগরিক চাহিদা না মেটানোর দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ।
আবার অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল ধারা বনাম বিএনপিসহ জামায়াত ও মৌলবাদী জোট– এই স্পষ্ট দু্ই রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরেও বেশকিছু ইস্যু নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এরমধ্যে একটি হচ্ছে এলাকা ইজম। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় নোয়াখালী, কুমিল্লা ও বরিশাল অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের বসবাস। ধারণা করা হয়, ১৮ লাখ ভোটারের মধ্যে নোয়াখালী, কুমিল্লা ও বরিশালের এই অঞ্চলের কমপক্ষে ৫ লাখ ভোটার রয়েছেন। ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় এইসব অঞ্চলের পরিচিত মুখদের নিয়ে এসে ভোটের প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে ইস্যু যাই হোক না কেন প্রচারণা জমে উঠেছে। রাত দিন নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা। নির্বাচনের প্রচারণা চলবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। সে কারণে শেষ সময়ে এক মূহূর্ত নষ্ট করতে চাইছেন না দলীয় নেতা-কর্মীরা। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলছে প্রচার-প্রচারণার কাজ। এমনকি নামাজ পড়ার আগে পরের সময়টিকে কাজে লাগাচ্ছেন তারা ভোটারদের আনুকূল্য লাভের আশায়। এলাকায় এলাকায় উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রচারণা সিটি করপোরেশন এলাকার পাড়া-মহল্লায় ভোটের উন্মাদনা ছড়িয়েছে বেশি।
সে কারণেই আ জ ম নাসির উদ্দীন যেমন আশ্বাস দিচ্ছেন চট্টলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার। শোনাচ্ছেন, জলাবদ্ধতা দূর করে মেগাসিটি নির্মাণের পরিকল্পনার কথা। তেমনি মনজুর আলম তার কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে আগামীতে আরো কি কি করবেন তার বিবরণ তুলে ধরে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাইছেন যে, তাকে ভোট দিলে তারা ভুল করবেন না।
ভোটাররা বলছেন, যিনি নগরীর সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন আমরা তাকেই ভোট দেব। ফলে মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী, যারা পূর্বে নির্বাচিত ছিলেন, তাদের গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণায় গিয়ে ভোট চাওয়ার সময় ভোটারদের নিকট কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে, আবার নতুন-পুরাতন সকল প্রার্থীই যানজট-জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।