চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলা আজ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৫, ০১:২৪

চট্টগ্রামে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের ১০৬তম বলীখেলা আজ শনিবার বিকালে নগরীর লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে আশপাশের দুই বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে লোকজ মেলা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের খ্যাতনামা বলীরা ইতোমধ্যেই নাম তালিকাভুক্ত করিয়েছেন। ব্যাপক জনপ্রিয় এ প্রতিযোগিতার গত কয়েকটি আসরে গড়ে ২০০ প্রতিযোগী অংশ নিলেও এবার অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে আয়োজকরা জানান।

 
এদিকে আবদুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার থেকে লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এসেছেন নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী নিয়ে। কোতোয়ালি মোড়, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মোড় ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় দোকান সাজিয়েছেন তারা। বরাবরের মতো এবারও মেলায় বাঁশ, বেত ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, মাদুর, পাটি, মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, ফুলের টব, ফুলদানি, হাতপাখা, প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা, বাঁশি ও রান্নাঘরে ব্যবহার্য সামগ্রীর বিপুল সমারোহ ঘটেছে। এছাড়া মুখরোচক মুড়ি, মুড়কি, খৈ, চানাচুর, বাতাসা, নিমকি ও নানা পদের মিষ্টান্ন মেলায় পাওয়া যাচ্ছে। নারীরা পাবেন সাজগোজের নানা সামগ্রী।
 
প্রতি বছর বৈশাখী মেলার ব্যাপ্তি চারদিন হলেও এবার একদিন কমিয়ে আনা হয়েছে বলে ‘ইত্তেফাক’কে জানিয়েছেন আবদুল জব্বারের কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানা ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা আসেন। এদের বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মেলার সময়সীমা ৩ দিন হলে এদের মধ্যে অনেকের আসা-যাওয়ার খরচও উঠে আসে না। তিনি জানান, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ কুস্তি প্রতিযোগিতার সাম্প্র্রতিক কয়েকটি আসরে গড়ে ২০০ বলী (কুস্তিগীর) অংশগ্রহণ করেন। তবে প্রতিযোগী সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাত্র ১০০ বলী নাম তালিকাভুক্ত করিয়েছেন বলে জানান জহরলাল হাজারী।
 

চট্টগ্রাম শহরের বদরপাতি এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার তত্কালে ব্রিটিশ-বেনিয়ার অত্যাচারের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের যুবকদের রুখে দাঁড়াবার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে ১৯০৯ সালে লালদীঘি ময়দানে বলীখেলা বা কুস্তি প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, সে সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মল্লবীর এই প্রতিযোগিতায় কসরত প্রদর্শন করতেন। কালের বিবর্তনে বলীখেলার আকর্ষণ অনেকটা ম্লান হয়ে পড়লেও খেলাকে কেন্দ্র করে মেলার আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে গত কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এক বিজ্ঞপ্তিতে মেলা আয়োজন না করার ঘোষণা দিলেও পরবর্তী সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে মেলার অনুমতি প্রদান করেন।