সরকারি চাকরিজীবীদের মতো প্রবাসীদের জন্য পেনশন স্কিম চালু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ প্রবাসী যা আয় করেন, তার পুরোটাই দেশে পাঠিয়ে থাকেন। আর যখন তারা দেশে ফেরেন, তখন হাতে কোনো টাকাই থাকে না। এ জন্য প্রবাসীরা যে রেমিটেন্স পাঠান, তা থেকে কিছু অংশ কেটে রেখে যদি পেনশন স্কিম চালু করা যায়, তাহলে প্রবাসীরাও যেমন লাভবান হবেন, তেমনি তাদের পেনশনের অর্থ দিয়ে বড় তহবিল তৈরি হবে, যা অবকাঠামো খাতের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারী সংগঠন সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ (এনআরবি) ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গভর্নর এ সব কথা বলেন। ‘বিনিয়োগ, রেমিটেন্স ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্র্যান্ডিং’ এ স্লোগান সামনে রেখে সংগঠনটি ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে সম্মেলন করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বক্তব্য দেন।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার, আমেরিকান দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সিলর ডেনিয়েল কিন, সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে পেনশন স্কিম চালুর জন্য সরকারকে পৃথক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে গভর্নর বলেন, ‘রেগুলেটরি সংস্থা গড়ে তোলা একটা সময়রে ব্যাপার। এ জন্য যত দিন রেগুলেটরি সংস্থা গড়ে তোলা না যাচ্ছে, তত দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী আছে।
দক্ষ জনশক্তি রফতানির ওপর গুরুত্বারোপ করে আতিউর রহমান বলেন, ‘অভিবাসী গমনেচ্ছু শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি তহবিল গঠন করবে।’ বিভিন্ন বেসরকারি প্রশিক্ষণ ইন্সটিউিটকে এই তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধির গড় হার ২ শতাংশ হলেও আমাদের ৪ শতাংশের ওপরে। এ রেমিটেন্সের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ২৩ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। এর ৬৬ শতাংশ রেমিটেন্সের অবদান।’
প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রেরণে সরাসরি নগদ সহায়তা না দিলেও অন্যভাবে তাদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ না করলে সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকা আরো বেশি শক্তিশালী হতো। এতে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে তারা ৪/৫ টাকা কম পেত। এ ছাড়া, দ্রুততার সাথে রেমিটেন্স পৌঁছে দেয়ার জন্য মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে। প্রবাসীরা এর বড় সুবিধা পাচ্ছেন।’
