গাজীপুরে রবিবার দুপুরে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হুড়াহুড়ি করে গার্মেন্টস কারখানা থেকে নামতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের গাজীপুর সদর, টঙ্গী হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ জেলার অধিকাংশ কারখানায় রবিবারের জন্যে ছুটি ঘোষণা করে।
গাজীপুর মহানগীর ঢাকা-গাজীপুর সড়কের ওয়্যারলেস গেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ৮তলা ইব্রাহীম টাওয়ারটির উপরের অংশ দক্ষিণ এবং পূর্বদিকে একই মালিকের আরেকটি ৬তলা ভবনের দিকে হেলে পড়েছে। এ কারখানায় সাংকোয়ান সোয়েটার এবং কোয়ানজ ইন্টারন্যাশনাল নামে দু’টি কারখানা রয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভবনটি হেলে পড়ার আতংকে শ্রমিকরা ভবন ছেড়ে নিচে নেমে আসে।
হাসপাতাল, কারখানার শ্রমিক এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্প শুরু হলে মহানগরীর মোগরখাল এলাকার টিএনজেড এ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়। এসময় হুড়াহুড়ি করে ৪ তলা ভবন থেকে নামতে গিয়ে শ্রমিক আয়েশা (২০), কল্পনা (২২), জোছনা (৩০), পারভীন (২৫), মাসুমা (২০), শামীমা (২৩), তাসলিমা (২৫), মরিয়ম খাতুন (২৪), নূপুর (২৫) পারভীন (২৪) ও শহিদুলসহ (৩০) অনেকে আহত হয়। তাদের গাজীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
একই ভাবে গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়ার মনিপুরে অবস্থিত ইউটা ফ্যাশনের আজিদা খাতুন (২০), রাশিদা (২২), জাকিয়া (২১) ও শিরিন (২৬) আহত হয়। তাদেরও একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
গাজীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎক আব্দুস সালাম সরকার জানান, বিকাল পর্যন্ত ৩৩ শ্রমিক আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মথ্যে দুইজনকে ঢাকায় রেফার্ড এবং ১৫জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
টঙ্গী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, মহানগরীর গাজীপুরা এলাকার হোপলাইন, মাহাদি ফ্যাশনসহ কয়েকটি গার্মেন্টের ৫৪ শ্রমিক আহত ও অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে ভর্তি ও বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, একই ভাবে নামতে গিয়ে সফিপুরের নীট এশিয়া কারখানার অন্তত ২৫ শ্রমিক হয়। তাদের স্থানীয় মর্ডান হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ম্যানেজার আব্দুল মজিদ।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার মাহবুব হোসেন জানান, ভূমিকম্পের কারণে জেলার কোথাও কোন কারখানা দেবে যাওয়া বা হেলে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্প আতংকে হুড়াহুড়ি করে নামতে গিয়ে শ্রমিক বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলার অধিকাংশ গার্মেন্টেস রবিবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়।
