ঠাকুরগাঁও জেলায় শনিবার দুই দফায় ও রোববার এক দফায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে কয়েকটি স্কুল এবং একটি ইউনিয়ন পরিষেদের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
শনিবার প্রথম দফায় দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে এবং দ্বিতীয় দফায় ১২টা ৪৮ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। অন্যদিকে রোববার দুপুর ১টা ১৬ মিনিটের দিকে আবারো ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
প্রায় ৩০ সেকেন্ড ব্যাপ্তির এ ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত লোকজন বাসাবাড়ি, অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আতঙ্কিত হয়ে বেরিয়ে এসে রাস্তা ও খোলা জায়গায় অবস্থান নেন। এ সময় ভূমিকম্পে পুকুরের পানি ও নদীর পানি ঢেউ খেলে যায়।
ভূমিকম্পের সময় ঠাকুরগাঁও সিএম আইয়ুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১টি শ্রেণীকক্ষের দেয়াল ও বাথরুমের ছাদে ফাটল ধরে এবং পলেস্তরা খসে পড়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সরে পড়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ভূকম্পনের সময় ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী বাবলি আক্তার আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ও ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আহসানা হাবিবা রিমি বুকের ব্যাথায় ছটফট করতে থাকে। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
৮ম শ্রেণী ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, শ্রেণীকক্ষে ফাটল ধরায় তাঁরা খুবই আতঙ্কে রয়েছে। যে কোন সময় বিল্ডিং ধসে পরতে পারে। আর এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।
৯ম শ্রেণীর ছাত্রী রাফিয়া আক্তার জানান, ভূমিকম্পের সময় তাঁরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে।
সিএম আইয়ুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপেন্দ্র নাথ ঝাঁ জানান, বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষগুলো ১৯৮২ সালে নির্মিত হয়। অনেক পুরনো বিল্ডিং হওয়ায় ভূমিকম্পে ভবনের কষতি হয়। তবে এসময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত সরে পড়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, স্কুলের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।
