ভোট না চেয়ে বার্ন ইউনিটে দগ্ধদের খোঁজ নিন

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৫, ২৩:৫৩

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে অবরোধে পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধদের স্বজনরা বলেছেন, অবরোধের নামে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে আবার সাধারণ মানুষের কাছে কিভাবে ভোট চান? এখনো অগ্নিদগ্ধদের আর্তনাদে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের পরিবেশ শোকাচ্ছন্ন। ভোট না চেয়ে বার্ন ইউনিটে গিয়ে অগ্নিদগ্ধদের খোঁজ নিন। গতকাল সোমবার ঢাকা রির্পোটার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ কর্মসূচিতে পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধদের স্বজনরা এ কথা বলেন।

 
অবরোধে নিহত কবি নজরুল কলেজের ছাত্র অভির মা নূরজাহান বেগম রিতা বলেন, আমার সন্তানের মতো একশরও বেশি মানুষ পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। পঙ্গু হয়েছে শত শত। অথচ এদের দেখতে খালেদা জিয়া অথবা বিএনপি নেতারা একবারও বার্ন ইউনিটে যাননি। চরম দুর্যোগের সময় চিকিত্সার খোঁজ নেননি। ন্যূনতম সান্ত্বনাটুকুও জানাননি। পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে তারা (বিএনপি) কীভাবে জনগণের কাছে ভোট চাইতে আসেন।
 
চৌদ্দগ্রামে পেট্রোল বোমায় আহত ছেলে মো. শফিকুল ইসলামের ছবি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে আসেন মো. আলাউদ্দিন। ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন বলেন, দগ্ধ হয়ে শফিকুল এখনো বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন। অসহ্য যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত কাতরায়। মানুষের এ কেমন রাজনীতি? খালেদা জিয়ার উদ্দেশে আলাউদ্দিন বলেন, ভোট নয়, আপনি (খালেদা) ?আমার ছেলেকে দেখে যান। দেখেন, কী নিদারুণ যন্ত্রণায় সে কাতরাচ্ছে।
 
দগ্ধ মনু মিয়ার কিশোর পুত্র আজিজুল হক বলেন, তার পিতা গ্রাম থেকে ডিম কিনে উত্তরা এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতো। পিতা দগ্ধ হওয়ায় তার পরিবারের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।
 
যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে নিহত গুলিস্তানের জুতার দোকানদার খোকনের ভাই সুমন, সালাহউদ্দিনের স্ত্রী উর্মি, ইসমাঈলের ভাই সুজনসহ বেশ কয়েকজন অগ্নিদগ্ধের স্বজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ডা. মাহবুবুল হাসান, ডা. তাহমিনা আফরোজ, ডা. আমিনুর রহমান অপু, ডা. ফারহানা, বৃত্তান্ত একাত্তরের সভাপতি মোহাম্মদ তানভীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।