নাটোর দফায় দফায় ঝড় আর শিলাবৃষ্টির কারণে আগাম ধান কেটে ঘরে তোলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বোরো চাষিরা। চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকদফা ঝড় আর শিলাবৃষ্টি হওয়ায় কৃষি বিভাগ কৃষকদের আগাম ধান কেটে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু তড়িঘড়ি করে ধান কাটাতে গিয়ে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। বেশি মজুরি গুনতে হচ্ছে। তাছাড়া ফলনও কম পাওয়া যাচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তবে কৃষি বিভাগ মত প্রকাশ করেছে আগাম ধান কাটায় ফলনের খুব একটা পার্থক্য হবে না।
চলতি বেরো মৌসুমে হালতি ও চলনবিল অধ্যুষিত জেলার সাত উপজেলায় ৫৭ হাজার ৪৯২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়। মৌসুমের শুরুতেই জেলার বিভিন্ন এলাকার উপর দিয়ে কয়েক দফা ঝড় বয়ে গেছে। শিলা বৃষ্টিও হয়েছে। এতে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ধরনের ক্ষতি ঠেকাতেই স্থানীয় কৃষি বিভাগ জমির ধান শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ পাকলেই তা কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়। এই পরামর্শ পেয়ে কৃষকরা তড়িঘড়ি করে ধান কাটতে শুরু করে দিয়েছেন। চলনবিল অঞ্চলের কৃষক হাসেম আলী, আফছার মণ্ডল, ফয়েজ উদ্দিন ও হালতির বিল এলাকার দীন মোহাম্মদ, আলাউদ্দিন মাস্টার, সামাদ মণ্ডল, নুরুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, এভাবে আগাম ধান কাটায় প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় দুই থেকে তিন মণ করে ফলন কম হচ্ছে। তাছাড়া একসঙ্গে সবাই ধান কাটাতে শুরু করায় কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধানের জন্য উপযুক্ত মূল্য না পেলে শেষ পর্যন্ত তাদের লোকসানই দিতে হবে। খাজুরা গ্রামের কৃষক সাদেক আলী জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান কাটায় ধানে চিটার পরিমাণও বেশি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডঃ আলহাজ্ব উদ্দিন আহমেদ জানান, শিলাবৃষ্টি এবং ঝড়ের কারণে ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে আর যাতে বড় ধরনের কোন ক্ষতি না হয় সেদিক বিবেচনা করেই কৃষকদের জমিতে দাঁড়ানো ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে ফলনে বড় ধরনের কোন তারতম্য হবে না। স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, এই পরিস্থিতিতে সঠিকমূল্য নির্ধারণ ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকরা যাতে ধানের উপযুক্ত মূল্য পান সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কমলগঞ্জেও আগাম ধান কাটা হচ্ছে
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, ঝড়-শিলাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কৃষক জমিতে থাকা কাঁচা, আধা পাকা ধান কেটে নিতে শুরু করেছে। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৪১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষা করা হয়েছে। দীর্ঘ খরা ও সেচের সমস্যা মোকাবেলা করে কৃষকের ঘরে বোরো উত্তোলনের ঠিক আগে শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও ঢলের পানিতে প্রায় অর্ধ-শতাধিক হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে।
গতকাল উপজেলার শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সিবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষক কাঁচা ও আধা পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দীন আহমদ বলেন, প্রায় ৩০ হেক্টর পরিমাণ বোরো ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে ফলন ভালো হয়েছে ও কৃষকরা লাভবান হবেন।
