চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রায় সব দেশ থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে এ সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত ও লিবিয়া ছাড়াও যুক্তরাজ্য, জার্মানী ও জাপান থেকে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমেছে। তবে এসময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৪-১৫) প্রথম নয় মাস (জুলাই-মার্চ) পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা এক হাজার ১২৫ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ছাড়া অন্য সব দেশ থেকে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে রেমিট্যান্স বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়া থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসলেও মার্চে এ পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। সিঙ্গাপুর থেকে মার্চে রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিন কোটি ৮০ লাখ ডলার আসলেও আগের মাসে এ পরিমাণ ছিল চার কোটি। একক মাস হিসাবে মার্চে আসা রেমিট্যান্সের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশ সৌদি আরব থেকে এসেছে ৩০ কোটি ৬৯ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৪ কোটি ৯৬ লাখ, ওমান থেকে আট কোটি ৫১ লাখ, কুয়েত থেকে নয় কোটি ২৩ লাখ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি ৯৬ লাখ এবং যুক্তরাজ্য থেকে ছয় কোটি ৪৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কুয়েত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৭৯ কোটি ৯৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৮২ কোটি ২৫ লাখ ডলার। আর লিবিয়া থেকে এ নয় মাসে এসেছে তিন কোটি ৩৮ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের অর্ধেকেরও কম। যুক্তরাজ্য থেকে আগের অর্থবছরের নয় মাসে ৬৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার আসলেও এ অর্থবছরের এর পরিমাণ ৫৮ কোটি ৮১ লাখ ডলার। একইভাবে জার্মানী ও জাপান থেকেও রেমিট্যান্স কমেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রেমিট্যান্স প্রেরণকারী শীর্ষ দেশ সৌদি আরব থেকে জুলাই থেকে মার্চ সময়ে ২৪৪ কোটি ১৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এদেশ থেকে ২৩২ কোটি ২২ লাখ ডলার এসেছিল। একইভাবে চলতি অর্থবছরের নয় মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যেখানে ২১০ কোটি ২৩ লাখ ডলার এসেছে আগের অর্থবছরের একইসময়ে ছিল ১৯৮ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। একই রেমিট্যান্সে বিশেষ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, ওমান ও বাহারাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গপুর প্রভৃতি দেশ থেকে আগের অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের চেয়ে বর্তমান অর্থবছরের নয় মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান থেকে আগের অর্থবছরের নয় মাসে কোন রেমিট্যান্স না আসলেও এ অর্থবছরের নভেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মিলিয়ে এক লাখ ডলারের কিছু বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
