পহেলা বৈশাখ সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুন্নি চত্বরে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বিপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি জয়সেন তনচঙ্গা, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আতিয়া ফেরদৌস চৈতি, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রজব প্রমুখ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, পহেলা বৈশাখে জাবিতে যৌন হয়রানির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন জড়িতদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের মদদে 'একটি চক্র' বারবার এ ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।'
সমাবেশ থেকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সকল শিক্ষার্থীদের শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বর্ষ বরণের সন্ধ্যায় যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেন তারা।
উল্লেখ্য, বর্ষবরণের সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস থেকে হলে ফেরার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একজন আদিবাসী ছাত্রী ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হন। এসময় তাকে মারধর করে টাকা-মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। পরে ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
এর পরদিনই ছাত্রলীগ থেকে অভিযুক্তদের বহিষ্কার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আট শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেন উপাচার্য। বহিষ্কৃতরা হলেন, নিশাত ইমতিয়াজ বিজয় (সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ), নাফিস ইমতিয়াজ (রসায়ন বিভাগ), আব্দুর রহমান ইফতি (নৃবিজ্ঞান বিভাগ), রাকিব হাসান (ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ) নুরুল কবির (নৃবিজ্ঞান বিভাগ), অর্ণপ দত্ত (রসায়ন বিভাগ), আশরাফুল ইসলাম (ইতিহাস বিভাগ), বিকাশ কুমার মহন্ত (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ)।
বহিষ্কৃতরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রলীগ কর্মী। এদের মধ্যে প্রথম পাঁচজন সংগঠনটি থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছেন।
