ঋণের সুদ যৌক্তিক পর্যায়ে নামানোর নির্দেশ গভর্নরের

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৫, ২০:৩৪
 
 
 
বারবার তাগিদ সত্ত্বেও শিল্প ও কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে বেশকিছু ব্যাংক অযৌক্তিক হারে সুদ আদায় করছে জানিয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া, ব্যাংকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ও মহিলা কর্মী নিয়োগ, অন্যায়ভাবে কর্মী ছাঁটাই ও অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্য দিকে, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে আবাসন খাতের সংকট নিরসনে সতর্কতার সঙ্গে এ খাতে প্রয়োজনীয় ঋণ জোগান দিতে বলেছেন গভর্নর।
বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোর নির্বাহীদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে ব্যাংকার্স সভা অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয়ে বিফ্রিং করেন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও ব্যাংক এমডিদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার।
এস কে সুর চৌধুরী বলেন, সভায় গভর্নর বলেছেন—চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে ঋণের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং মার্চ শেষে স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ০৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আমানতের সুদহার যে হারে কমেছে ঋণের সুদহার সে হারে কমেনি। ১৩টি ব্যাংকে এ হার এখনো ১৪ শতাংশের ওপরে রয়েছে। পাঁচটি ব্যাংকের ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মাসে ঘোষিত কৃষি ঋণের সুদহার ১১ শতাংশের ওপর রয়েছে, যা মোটেই কাম্য নয়। তাই ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং স্প্রেড ৪-এর কাছাকাছি নামিয়ে আনতে বলেছেন গভর্নর। এ ছাড়া, ডেবিট কার্ডের চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিয়ম মেনে ঋণ পুনঃতফসিল করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেন গভর্নর।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ব্যাংকের চাকরিতে প্রবেশকালে বয়সের উচ্চসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগবিধিমালা অনুসারে প্রতিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ একটি অভিন্ন বিধিমালা তৈরি করবে। যেখানে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে সুযোগ দেয়ার বিধান থাকতে হবে। এ ছাড়া, তিনি ব্যাংকে অধিক সংখ্যক নারী কর্মী নিয়োগ, ডিএমডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং নারীদের সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ড. আতিউর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরপূর্বক স্বেচ্ছায় চাকরিতে ইস্তফা, বরখাস্ত বা অপসারণ এবং এর পরবর্তীতে দায়দেনা প্রাপ্তিতে জটিলতা সৃষ্টি, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতি স্থগিত করার নানা অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অন্যায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া, সন্ধ্যা ৬টায় কার্যদিবস শেষেও কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমনকি নারী কর্মীদেরও কাজের নামে অহেতুক অফিসে আটকে রাখা হচ্ছে, যা মানবিক ব্যাংকিংয়ের পরিপন্থী।
সভায় লিখিত বক্তব্যে গভর্নর বলেন, আবাসন খাতের সঙ্কট নিরসনে এ খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে হবে। তবে যেন-তেন ঋণ না দিয়ে গুণমানের ঋণ দেয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে ঋণ আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া, কিছু ব্যাংক ঝুঁকি সহন ক্ষমতা নির্ধারণ না করেই ঋণ বিতরণ করছে। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পাশাপাশি ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তাতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত আরো শক্তিশালী হবে।
নেপালে প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে ব্যাংকার্স সভায়।