খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ‘ভয়াবহ’ অডিও শুনতে চান না ট্রাম্প

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৫৮

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের অডিও রেকর্ডিং যুক্তরাষ্ট্রকে সরবরাহ করেছে তুরস্ক। তবে এই ‘ভয়ানক’ রেকর্ডিং শুনতে চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজ সানডে অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি এই টেপ শুনতে চাই না। আমার জন্য এটা শোনার কোনও কারণ কিংবা ইচ্ছা নেই। এ বিষয়ে ব্রিফিং নেওয়াটাই যথেষ্ট। কেননা এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক ও ভয়ানক রেকর্ডিং।

এদিকে, ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাকে বলেছেন, সরাসরি খাশোগি হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার কোনও সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তুরস্কোর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হওয়ার আগে আমেরিকায় বসবাসরত খাশোগি ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখতেন। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইএ নানা তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশেই খাশোগিকে খুন করা হয়েছে। এর অন্যতম আলামত সালমানের ছোট ভাই আমেরিকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে খাশোগির টেলিফোন আলাপ। ওই ফোনালাপে খালিদ খাশোগিকে ইস্তাম্বুলে গিয়ে সৌদি কনস্যুলেট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলেন। একইসঙ্গে নিশ্চয়তা দেন যে, তার কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু খাশোগি সেখানে গিয়ে নিহত হন। এর দুইদিন পরই খালিদ বিন সালমান তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে দেশে ফিরে যান। তাকে আর ওয়াশিংটনে ফেরত পাঠানো হয়নি। অন্য একজনকে সেখানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের কাছে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির স্বার্থে খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজের হাত থাকার বিষয়টি চেপে যেতে চাইছেন। তবে সিআইএ’র অনুসন্ধানে এ সংক্রান্ত যেসব প্রামাণ্য দলিল উঠে এসেছে তাতে এ হত্যাকান্ডে সৌদি যুবরাজকে আর নির্দোষ বলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন খাশোগি। কিন্তু কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পরপরই তাকে খুন করে সৌদি গোয়েন্দারা। সমপ্রতি তুরস্ক এই হত্যাকান্ডের সময়কার রেকর্ডিংগুলো যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বিনিময় করেছে।

জার্মানির নিষেধাজ্ঞা:এদিকে, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ১৮ জনের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস একথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া আগে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।