‘মে দিবস কি জানি না, মাইর দিলেও কাম করা লাগব’

আপডেট : ০১ মে ২০১৫, ০০:২৮

রায়পুর শহরের বাসাবাড়ী এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক ফারুক হোসেনের (৪০) ছয় সদস্যের সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। ফারুক বলেন, ‘পেটের ধান্দা সবার আগে। নেতারা রিকশা চালাইতে মানা করছে। কিন্তু মাইর দিলেও আমার কাম করা লাগব।’ শহরের আরেক অটো রিকশাচালক মানিম মিয়া (২৫) বলেন, ‘মে দিবস কি জানি না। কাজ যদি না করি খাব কী?’

 
তবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জামসেদ কারিম বাকী বিল­াল বলেন, সকালে মে দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ সকল চালকদের বলা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। এরপর তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। একই কথা বলেন রিকশা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহাজান মিয়া।
 
পৌর শহরের নির্মাণ শ্রমিক নুরনবী বলেন, ‘পয়লা মে কাজ না করার জন্য নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা চিঠি দিয়েছে। তার পরও গোপনে কাজ করব।’ তবে বাসমালিক সমিতির নেতা তানভীর হায়দার চৌধুরী রিংকু বলেন, শ্রমিকদের কেউ কাজ করতে চাইলে বাধা দেয়া হবে না। কাজ করা-না করার বিষয়টি তাঁদের ইচ্ছার ওপর।
 
সৈয়দপুরে বাড়ছে শিশু শ্রমিক
 

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, সৈয়দপুরের মজুরী অধিকার বঞ্চিত ১০ হাজার শিশু পানির দামে শ্রম বিক্রি করছে। মঙ্গাপীড়িত এ অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবার থেকে আসা এসব শিশু পরিবারের অভাব মেটাতে শ্রম বিক্রিতে নেমেছে। বর্তমানে এর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেসরকারি জরিপে জানা যায়, সৈয়দপুরে বিভিন্ন মিল, শিল্প, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে জড়িত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এখানে মাঝারি ও হালকা শিল্প মিলে প্রায় ৫ হাজার মিল ফ্যাক্টরি ও কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিনি গার্মেন্টস, গুল ও আগরবাতি ফ্যাক্টরি, বাক্স-বালতি কারখানা, মোমবাতী ফ্যাক্টরী, লেদার ফ্যাক্টরী, কাঠের ফার্নিচার দোকান, চাতাল, ওয়েলডিং, হোটেল রেস্তোরাঁ, মোটরসাইকেল গ্যারেজ, নির্মাণ শ্রমিক, বেকারী শিল্প সহ অসংখ্য মিল, ফ্যাক্টরি, কারখানা ও প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান ঘিরে গড়ে ওঠা শ্রম বাজারে বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরাও শ্রম বিক্রি করছে। অনেক শিশু স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।