নেপালে ঘটে যাওয়া ৭.৯ মাত্রার মারাত্মক ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা গেছেন। বাংলাদেশে ভূমিকম্পের কারণে মৃতের সংখ্যা পাঁচ। ভয়াবহ এই ভূমিকম্প আঘাত হানে বাংলাদেশ সময়ে বেলা সোয়া ১২টায়। ভূমিকম্পের পরপরই প্রাণভয়ে অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন। কেউ বা ভূমিকম্পের কথা সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। অনেকেই সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করলেও কেউ কেউ ভূমিকম্প নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত মন্তব্যও করেছেন।
নেপালে বেড়াতে যাওয়া বাংলাদেশিরা সবাই নিরাপদ বলেই খবর দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বাংলাদেশের কুমিল্লায় ৫৭ জন, সাভারে প্রায় ১০০ জন মানুষ আহত হয়েছে বিল্ডিং থেকে তাড়াতাড়ি নামতে গিয়ে। তবে বাংলাদেশের জন্য ভূমিকম্পের মতো যেকোনো দুর্যোগই অনেক ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসতে পারে।
নেপালে সাহায্য করতে বাংলাদেশ থেকে ৩৭ সদস্যের একটি মেডিক্যাল দল নেপাল গেছে। সি ১৩০ নামে একটি প্লেনে করে নেপালের উদ্দেশে ১০ টন রিলিফ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্লেনটি এরই মধ্যে নেপালে পৌঁছেছে।
ফেসবুক এবং টুইটারে বাংলাদেশ এবং #earthquake লিখে সার্চ দিলে হাজার হাজার পোস্ট চোখে পড়বে। সেলিব্রেটিরাও পিছিয়ে ছিলেন না এই দৌড়ে। ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে অনেকে জোক করতেও ছাড়েননি।
একুশে টেলিভিশনে লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালে ভূমিকম্পের ভিডিওটিও বেশ আলোড়িত হয়েছে। ভূমিকম্প নিয়ে বাংলাদেশের বিপদের কথাও জানিয়েছে ফ্রি বাংলাদেশ নামে একটি টুইটার পেজ।
নেপালে ভূমিকম্পে নিরাপদ মানুষদের তথ্য জানাতে ফেসবুক নতুন একটি অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। কিন্তু অনেক বাংলাদেশি ভুল করে সেই অ্যাপটিতে টিক মার্ক দিচ্ছেন। সেটা নিয়েও আলোচনা ছিল সোস্যাল মিডিয়ায়।
অনেকেই আবার সম্ভাব্য ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্ক এবং গুজব ছড়িয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশের বেশিরভাগমানুষ ভূমিকম্প থেকে এখনও নিরাপদ আছেন। কিন্তু নেপালের অবস্থা খুবই খারাপ। নেপালে ভূমিকম্পের ফলে প্রিয়জনদের খবর জানতে এখন অনেক সেবা প্রতিষ্ঠানই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মধ্যে আছে ভাইবারও। ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নেপালে তাদের সেবা ফ্রি করে দিয়েছে ভাইবার।
মোবাইল ফোন থেকে ল্যান্ড ফোনে কল করতে ‘ভাইবার আউট’ নামের ওই সেবাটিও নেপালে ফ্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মাল্টি প্ল্যাটফর্ম কলিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির পর উদ্ধারকাজে ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য পেতে ‘পার্সন ফাইন্ডার’ নামে একটি টুল চালু করেছে সার্চ ইঞ্জিন গুগল। অনলাইন এই অ্যাপ্লিকেশনে ভূমিকম্পে হতাহতের শিকার ব্যক্তিদের সঠিক তথ্য পেতে ও তথ্য দিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে গুগলের এই টুল।
সারা পৃথিবী থেকে অনেক সাহায্যকারী দল এখন নেপালে অবস্থান করছে। ত্রাণ এবং উদ্ধারকার্য পরিচালনার জন্য অনেক দেশি-বিদেশি সংস্থা এবং এনজিও অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
আগ্রহীরা http://goo.gl/tOlu5b, http://goo.gl/RiIgcj, http://goo.gl/XTya—লিংকগুলোতে গিয়ে নেপালের দুর্গতদের জন্য সাহায্য পাঠাতে পারেন।
