ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় একমাসে ১৬ খুন

আপডেট : ০৩ মে ২০১৫, ১৫:০৪
খুনো খুনির জেলায় পরিনত হয়েছে ব্রাহ্মণনবাড়িয়া। একের পর এক চলছে খুনোখুনি। এতে সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছে, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ৩০ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৬ জন খুন হয়েছেন। পারিবারিক কলহ, জমি নিয়ে বিরোধ, পূর্ব শত্রুতার জের, তুচ্ছ ঘটনা এবং দুর্বৃত্তদের হামলায় এসব খুনের ঘটনা ঘটে। 
 
জেলার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, আইন শৃংখলার কোন অবনতি হয় নি। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সর্বশেষ গত বুধবার বিকেলে পারিবারিক কলহের জের ধরে জেলার নবীনগরের পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে পিতার উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে প্রবাসী পুত্র আমজাদ মিয়া (৩০) খুন হন। ২৭ এপ্রিল সোমবার মাছ ধরা নিয়ে সরাইলের পাকশিমুল ইউনিয়নের দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে প্রবাসী জাকির হোসেন (৩২) বল্লমের আঘাতে নিহত হন।
 
একইদিনে রাস্তা বিরোধের জের ধরে বিজয়নগরের আদমপুর গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আদম খাঁ (৫৫) নিহত হন। ২৬ এপ্রিল সদর উপজেলার তালশহরের অষ্টগ্রামের একটি ধানী জমি থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) নামক যুবকের গলা কাটা ও হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার হয়। তিনি ৯দিন পূর্বে নিখোঁজ হন। ২৩ এপ্রিল বিজয়নগরের বুল্লা গ্রামের টানপাড়ায় পুকুর থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক সোহরাব চৌধুরীর (১৮) লাশ উদ্ধার হয়। তিনি দুইদিন পূর্বে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
 
২১ এপ্রিল রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাতবাড়িয়ার ইটভাটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী উজ্জ্বল মিয়া (৩২) পুলিশের সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন। ২১ এপ্রিল নবীনগরের শ্যাম গ্রামে নাতির কুলখানিতে গিয়ে কলহের জের ধরে বেধড়ক পিটুনীতে নানী মনোয়ারা বেগম (৫৫) নিহত হন। ১৯ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনায় নাসিরনগরের খান্দুরা গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আব্দুল করিম (৪০) নিহত হন। ১৯ এপ্রিল সদর উপজেলার চিনাইর গ্রামে অপহরণকারীদের হাতে শিশু হিমেল শিকদার নিহত হন। ১৫ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটির জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সদর উপজেলার মজলিশপুর শ্যামপুর গ্রামের লিটন মিয়া (২০) খুন হন। ১৩ এপ্রিল কসবার লেশিয়ারা গ্রামের জমি থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্র মো. রহমত উল্লাহর (১২) লাশ উদ্ধার হয়। তিনি এক সপ্তাহ পুর্বে নিখোঁজ হন। ১১ এপ্রিল আখাউড়ার নারায়নপুর এলাকা থেকে হাত-পা এবং মুখ বাধা অবস্থায় কামাল মিয়া (২৫) লাশ উদ্ধার হয়।
 
৯ এপ্রিল সদর উপজেলার জাঙ্গাল থেকে শিশু সাজিদ উল্লাহর (৫) লাশ উদ্ধার হয়। ৮ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী গ্রামের উত্তর পাড়ার জমি থেকে প্রবাসী মনির হোসেন (৩০) গলাকাট লাশ উদ্ধার হয়। ৭ এপ্রিল সরাইলের ইসলামাবাদ এলাকার খাল থেকে অজ্ঞাত নামা (৩০) যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। একই দিন নবীনগরের সোহাতা গ্রামের খাল থেকে অজ্ঞাতনামা (২২) যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।