বারান্দায় বসে বইমেলা থেকে কেনা নতুন বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিলাম। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিচ্ছিলাম। এমন সময় হঠাত্ পল্টু ভাই এসে হাজির। এসেই বলল, ‘তোর ঘরে কী খাবার আছে? যা আছে সব বের কর। খুব খিদে পেয়েছে।’ আমি মুখ তুলে পল্টু ভাইয়ের দিকে তাকাতেই হতভম্ব হয়ে গেলাম। শার্ট ছেঁড়া, চোখে মুখে ধোলাই খাওয়ার ছাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এমন অবস্থার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। পল্টু ভাই বলল, ‘সব খেতে খেতে বলব, আগে খাবার আন।’ আমি চানাচুর আর মুড়ি মেখে আনলাম। পল্টু ভাই খাবার দেখে ভ্রু কুঁচকিয়ে ফেলল। বিরক্তির সুরে বলল, ‘এগুলা কি নিম্নমানের খাবার খাওয়াচ্ছিস তোর মেহমানকে! আমি তোর মেহমান। মেহমানদারিও জানিস না। আচ্ছা এনেছিস যখন দে, খাই।’ আমি বললাম, ‘এখন বলো তো তোমার এই হাল হলো কিভাবে?’ পল্টু ভাই বলল, ‘জানিস তো পাড়ার ছোট ছোট ছেলেদের ফুটবল কিনে দেওয়ার জন্য মামার কাছে টাকা চেয়েছিলাম। মামা টাকা দেননি তাই পাশের বাড়ির নতুন জামাইয়ের ল্যাপটপটা গায়েব করে দিয়েছিলাম। সেই ল্যাপটপ গায়েব করাটাই কাল হয়েছে রে বল্টু।’
আমি বললাম, ‘ল্যাপটপ চুরি তো পাড়ার ছেলেদের বল কেনার টাকা দেওয়ার জন্য করোনি। তুমি চুরি করেছিলে লাভলী আপুর সাথে ডেটিংয়ে যাওয়ার টাকা জোগাড় করার জন্য। আর সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর মামা তো ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিয়েছে। আবার নতুন করে কী হলো?’
পল্টু ভাই বলল, ‘বললাম তো সেই চুরিই কাল হয়েছে। প্রতিদিন পাড়ার কিছু হারালেই সবাই আমাকে সন্দেহ করে। মামার কাছে নালিশ করে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। থানা পুলিশের ভয় দেখায়। কিন্তু আজ যে নালিশ নিয়ে এসেছে এই নালিশ শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি রে বল্টু! আমি নাকি রহিমার মায়ের মুরগি চুরি করেছি! রহিমার মা কাঁদতে কাঁদতে মামার কাছে বিচার এনেছে তার ডিম পাড়া দুইটা দেশি মুরগি আমি চুরি করেছি। এটা নাকি তার হাতির সাইজের ভোম্বল নাতিটা স্বচক্ষে দেখেছে। মামার কাছে সে কসম কেটে বলেছে। মামা এটা বিশ্বাস করে সবার সামনে পিটিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ছিঃ ছিঃ! শেষমেশ আমাকে মুরগি চোর বানাল! এত নিম্ন প্রজাতির জীব আমি পল্টু চুরি করব! গরু চোর বানালেও তো পাড়ার লোকদের কাছে একটু মানসম্মান রক্ষা পেত। তোর পল্টু ভাইয়ের ২৫ বছর ধরে অর্জন করা মানসম্মান ধুলোয় মিশে গেল রে বল্টু।’
আমি সবকিছু শুনে বললাম, ‘পল্টু ভাই, তোমার মতো অবস্থায় যাতে আর কেউ না পড়ে তার জন্য সচেতনতা বাড়াতে একটা স্লোগান হতে পারে—একটি চুরি সারা জীবনের কান্না!’
পাঁচবিবি, জয়পুরহাট
