বিপিএলের ফাইনালে ঢাকা বনাম কুমিল্লার খেলা চলছে। টিভির সামনে বসে খেলা দেখছি সবাই মিলে। আব্বু-আম্মু, বোন-দুলাভাই, বদের হাড্ডি ছোটভাই, আর পিচ্চি ভাগ্নেটার সাথে পাড়ার বেশকিছু বাচ্চাকাচ্চা মিলে ঘরটা পরিপূর্ণ! খেলাতে যত উত্তেজনা বাড়ছে, তত উত্তপ্ত হচ্ছে ঘরের পরিবেশ। পিচ্চি ভাগ্নেটা ছাড়া ঢাকার সমর্থক হিসেবে আমার পাশে আর কাউকে পাইনি! তামিম ইকবাল একেকটা ছয় মারেন আর বদমায়েশ ছোট ভাইটা কানের কাছে চেঁচিয়ে বলে, ‘সাবাস তামিম, সাবাস!’ ওর সাথে গলা মেলায় অন্য পিচ্চিগুলোও!
তামিমের বাউন্ডারিও থামছে না, থামছে না ওদের উল্লাসও! খেলা দিয়ে ওদের দমাতে না পেরে শেষপর্ষন্ত মুখ খুলতেই হলো! ছোটভাই আশিককে থামাতে গিয়ে মুখ ফসকে বলে ফেললাম, ‘এত যে সাবাস সাবাস করছিস, সাবাস শব্দটা কোথা থেকে এসেছে জানিস? ইতিহাস না জেনেও সাবাস সাবাস করিস কোন আক্কেলে?’
আমার এরকম কথা শুনে ছোটভাই কিছুটা চুপসে গেল। চেঁচানোর আওয়াজ কিছুটা হলেও কমলো! অবশ্য এত বুদ্ধি খাটিয়েও শেষপর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি, ম্যাচটা কুমিল্লাই জিতল।
খেলার সব উত্তেজনা ততক্ষণে শেষ হয়ে গেছে, টিভিতে ম্যান অব দ্য ম্যাচ দেওয়ার আয়োজন চলছে। ঠিক এমন সময় পিচ্চি ভাগ্নেটা হঠাত্ বলে উঠল, ‘আচ্ছা মামা, তুমি না বললা “সাবাস” শব্দটার কী একটা ইতিহাস আছে? বলো তো শুনি!’
ভাগ্নের হঠাত্ এমন প্রশ্নে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছি। বড়রা সবাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে! বেঁফাস কথা বলার ফল রীতিমতো টের পাচ্ছি! আশিককেও দেখলাম ওর কোদালের মতো দাঁতগুলো বের করে হাসতে! শেষমেশ বেফাঁস কথা কাটাতে উপস্থিত বুদ্ধির আশ্রয় নিয়ে উত্তর দিলাম, ‘ধারণা করা হয়, সুদূর অতীতে চীনে শাহ্ আব্বাস নামে একজন খলিফা ছিলেন। তিনি তার মহত্ব, সাহসিকতা আর ভালো কাজের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ওই সময়ে কেউ কোনো ভালো কাজ করলে সবাই বলত, ‘বাহ, তুই তো শাহ্ আব্বাসের মতো কাজ করেছিস’ বা ‘তুই তো পুরাই শাহ্ আব্বাস।’
ভাগ্নে অবাক হয়ে চোখ কপালে তুলে বলল, ‘তারপর, তারপর!’
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, ‘তারপর আবার কী! এভাবেই কাল পরিক্রমায় “শাহ্ আব্বাস” শব্দটি থেকে “শাব্বাস” এবং শেষপর্যায়ে “সাবাস” শব্দের উত্পত্তি হয়।’
গল্প শেষ করে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেললাম, ভাবলাম যাক এইবার অন্তত বেফাঁস মন্তব্য করে রক্ষে পেয়েছি উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে বানানো গল্প বলে! কিন্তু না, আমায় অবাক করে সবার সামনে ভাগ্নে বলল, ‘মামা তুমি গল্পটাও ঠিকমতো বানাতে পার না, চীন তো সবসময় বৌদ্ধ ধর্মের রাষ্ট্র ছিল এবং আছে, ওখানে মুসলমান শাসনকর্তা কই পেলে তুমি! আর চীনের শাসনকর্তার পদবি কবে খলিফা ছিল?’
ঘরে হাসির রোল পড়ল। আর আমি অনেকটা লেজ গুটিয়ে পালিয়ে বাঁচলাম! শুধু মনে মনে বললাম,
‘বেফাঁস মন্তব্য করিয়া আমি করিয়াছি ভুল,
এ ভুলের এখন আমায় দিতে হচ্ছে মাসুল!
’রাজশাহী
