অবশেষে ৬৮ বছরের ছিটমহল সমস্যার সমাধান হতে যাওয়ায় আনন্দে ভাসছে উভয় দেশের ১৬২ ছিটমহলের নাগরিকরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচার হওয়ার পরই উল্লসিত হয়ে ওঠে তারা। তাত্ক্ষণিকভাবে তারা মিষ্টি বিতরণ করে।
গতকাল দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতীয় পুটিমারী ছিটমহলে দেখা গেছে গোটা ছিটমহলবাসী মেতে উঠেছে আনন্দ-উলাসে। যার যার কাজ ফেলে সবাই চলে এসেছে মহাসড়কের ধারের ছিটমহল অফিসের সামনে। এসময় তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়ে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করে। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার সভাপতি মফিজার রহমান, পুটিমারী ছিটমহলের চেয়ারম্যান তছলিম উদ্দিনসহ ছিটমহলের অধিবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। ছিটমহলের নেতারা জানিয়েছেন, উভয় দেশের মধ্যকার ১৬২টি ছিটমহলেই সেখানকার নাগরিকরা আনন্দ-উল্লাস করে মিষ্টি বিতরণ করছে।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় কমিটি পঞ্চগড় ও নীলফামারী শাখার সভাপতি মফিজার রহমান বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে এমনটি আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। গতকাল ভারতের মন্ত্রিসভায় বিলটি অনুমোদন হওয়ার পর আমরা নতুন করে আলোর মুখ দেখছি। আর কয়েকটি ধাপ পেরুলেই আমাদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান হবে। আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করতে পারব।’
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় কমিটি বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘অনুমোদন দেয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তবে আমরা এখনও আশ্বস্ত হতে পারছি না। কারণ কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ জোটের আমলে বিলটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাস হলেও বিজেপির কারণে পার্লামেন্টে উঠেনি। আজ রাজ্যসভায় বিলটি উঠতে পারে। আমরা আশা করছি রাজ্যসভায় বিলটি পাস হয়ে লোকসভায় যাবে।’
