ঝুঁকিপূর্ণ সাহেব মিনার

আপডেট : ০৬ মে ২০১৫, ০৩:০৭

ছাতকে আতংকের মধ্যে সময় পার করছেন ঐতিহাসিক ইংলিশ টিলার নিচে বসবাসকারী লোকজন। কারণ যে কোন সময় টিলায় অবস্থিত সুউচ্চ সাহেব মিনার ধসে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিপর্যয় নেমে আসতে পারে নিচে বসবাসরত ২০-২৫টি পরিবারে। জানা গেছে, উপজেলার প্রাচীন নিদর্শন ইংলিশ টিলায় সুউচ্চ সাহেব মিনার এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।

 

ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হলেও সাহেব মিনার ও টিলার নিচে বসবাসরত পরিবারগুলোকে রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে আতংক ও ঝুঁকি নিয়ে টিলার নিচে বসবাস করছে এসব পরিবারের শতাধিক লোক। সম্প্রতি পর পর দু’দিন ভূমিকম্পের সময়ও মিনার ধসে পড়ার আতংক বিরাজ করছিল টিলার নিচে বসবাসকারী মানুষদের মাঝে।

 
উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র বাগবাড়ি এলাকার প্রায় মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত জর্জ ইংলিশ এসকুয়্যারের সমাধিস্থল এই  ইংলিশ টিলা। ১৭৯৪ সালে সুদূর ইংল্যান্ড থেকে জর্জ ইংলিশ এসকুয়্যার নামের এই ব্যবসায়ী সস্ত্রীক ব্যবসার  জন্যে আসেন ছাতকে। তিনি এখানে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু করেন চুনাপাথর ব্যবসা। জর্জ ইংলিশ ছাতকে থেকে প্রায় ৫০ বছর ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেন। ১৮৫০ সালে ৭৬ বছর বয়সে জর্জ ইংলিশ মারা গেলে তার স্ত্রী হেনরী স্বামীর স্মৃতি রক্ষার্থে টিলার উপর নির্মাণ করেন একটি দর্শনীয় বিশাল স্মৃতিসৌধ। পরবর্তীতে স্মৃতিসৌধটি সাহেব মিনার নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্গাকার আকৃতি মিনারটি প্রায় ২৫ ফুট উঁচু ও সাড়ে চার ফুট চওড়া। জর্জ ইংলিশ মারা যাবার ক’বছর পর তার স্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নিজ দেশ ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। সে সময় থেকে ইংলিশ টিলা ও সাহেব মিনার সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে এক ভূমিকম্পে মিনারের মাঝের অংশ ভেঙ্গে টিলার উপরে পড়ে গেলে উপরের ক্রমান্বয় সরু অংশটি নিচের অংশে এসে আড়াআড়িভাবে বসে যায়। এভাবেই যুগের পর যুগ পড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক এই সাহেব মিনার। দেশ স্বাধীনের আগে বা পরে কোন সরকারের আমলেই মিনারটি সংরক্ষণের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
 

এ ব্যাপারে ছাতক পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র তাপস চৌধুরী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ মিনারের নিচ থেকে বসবাসরত মানুষকে অন্যত্র সরে যেতে ক’বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউই সরে যায়নি। মিনারটির বর্তমান অবস্থার কথা স্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি রক্ষা করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। টিলার নিচে বসবাসরত মানুষও অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। টিলাটি পৌর শহরের মধ্যে অবস্থিত। তাই পৌরসভার সহযোগিতা ছাড়া এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।