রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদারের পাশাপাশি কৃষি ও অকৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ৯ মাসে ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
ঋণ বিতরণের পাশাপাশি ব্যাংক ক্লাসিফাইড ও অন্যান্য বিদ্যমান ঋণের ৩৫২ কোটি টাকাসহ ১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় ৩৭৮টি শাখার মাধ্যমে ৩ হাজার ৪২০ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে।
রাকাবের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল খালেক খান বাসসকে বলেন, ব্যাংকে চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ক্লাসিফাইড ও অন্যান্য বিদ্যমান ঋণ ৭৫০ কোটি টাকাসহ ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আদায় এবং ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে ঋণ বিতরণে রাকাবকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাংক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রোটিন ঘাটতি কমাতে পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের মতো সম্ভাবনাময় খাতে ঋণদান কার্যক্রম জোরদার করছে।
খালেদ খান বলেন, শস্য উৎপাদনে ১ দশমিক শূন্য ২ লাখ কৃষকের মাঝে ৫৫২ দশমিক ২১ কোটি টাকা, মৎস্য চাষের জন্য ৪৩০ কৃষকের মাঝে ১৫ দশমিক শূন্য ৫ কোটি টাকা, প্রাণিসম্পদের জন্য ৬ হাজার ৬৬ কৃষকের মাঝে ৪৮ দশমিক ৮৭ কোটি টাকা, কৃষি খামার ও যন্ত্রপাতির ২৭ গ্রাহকের মাঝে শূন্য দশমিক ৩৫ কোটি টাকা, কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য ১১২ কৃষকের মাঝে ১৪ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা, এসএমই ১ হাজার ৫৪৫ উদ্যোক্তাদের মাঝে ৭২ দশমিক ৮০ কোটি টাকা, নগদ সহায়তা হিসেবে ৬ হাজার ৯৪৭ জনের মাঝে ৩৪৭ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা, দারিদ্র্য দূরীকরণে ৪ হাজার ২৪২ গ্রাহকের মাঝে ২৯ দশমিক শূন্য ১ কোটি টাকা, বিভিন্ন চাহিদা ভিত্তিক খাতের ২৬ হাজার ৭৪৮ গ্রাহকের মাঝে ১২৮ দশমিক ৫১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতি মোকাবেলায় পরিবেশ বান্ধব এবং বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের জন্য সৌর বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে তুলতে বিশেষ ঋণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
