পীরগঞ্জে গ্রাম্য সালিশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবার সমাজচ্যুত

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:০০

পীরগঞ্জে কিশোরের বিরুদ্ধে ভালোবাসার অপবাদ এনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি পরিবারকে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাজচ্যুত (একঘরে) করেছেন গ্রাম্য মাত্বররা। সমাজচ্যুত পরিবারের সঙ্গে কেউ কথা বললে কিংবা তাদের বাড়িতে গেলে প্রত্যেকের ১ হাজার টাকা করে জরিমানারও সিদ্ধান্ত হয়েছে গ্রাম্য সালিশের ওই বৈঠকে। এতে চার সদস্যের এ পরিবারটি সামাজিক, মানসিক ও ধর্মীয় আচার-রীতি থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের আদিবাসী পল্লী চককৃষ্ণপুর গ্রামে।

এলাকাবাসী জানায়, রিমি হাঁসদার এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী ছামী মার্ডিক। ছেলে রিপন সদ্য সমাপ্ত জেএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। মেয়ে মমেনা চলতি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী। প্রায় ৬০/৬২ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবার নিয়ে চককৃষ্ণপুর গ্রাম। জানা গেছে,  প্রায় এক সপ্তাহ পূর্বে গ্রাম্য মাতব্বর গোপিন মরমু’র নেতৃত্বে চককৃষ্ণপুর গ্রামে এক সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে রিমি হাঁসদাকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়। কিন্তু রিমি হাঁসদা বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় তাকে এবং তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়। ফলে গ্রামের কারো সঙ্গে চলাফেরা তো দূরের কথা, তাদের প্রার্থনালয়েও যেতে বারণ করা হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়া রিপন হাঁসদা জানায়, আমার সঙ্গে গ্রামের সহপাঠীরা কেউ কথা বলে না। এমনকি খেলতেও নেয় না। গ্রাম্য মাতব্বর গোপিন মরমু জানান, দশের নির্দেশ উপেক্ষা করায় ওই পরিবারকে একঘরে করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও সমাজ সেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সরেস চন্দ্র বলেন, বিষয়টি অবগত নই। কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।