সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে মানবপাচারের কাজে শুধু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দালাল চক্রই জড়িত নয়। সমপ্রতি পুলিশের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের আইন-শৃ্ঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্য অর্থের বিনিময়ে মানবপাচারে সহায়তা করছে। এছাড়া মিয়ানমারের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড, কয়েকজন হুন্ডি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী, সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলারের মালিক-কর্মচারীসহ কয়েক হাজার ব্যক্তি অনৈতিক ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মানবপাচারের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কে সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজন ছাড়াও স্থানীয় জন-প্রতিনিধিরা জড়িত রয়েছেন। মালয়েশিয়া থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে অনেকেই মানবপাচারে সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের সাথে জড়িত ২৬ জন হুন্ডি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী, ১১ জন আন্তর্জাতিক পাচারকারী এবং ২৩০ জন দেশীয় পাচারকারীকে শনাক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মানবপাচার রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে ৮টি সুপারিশ করা হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, মানবপাচার ও ইয়াবা ব্যবসার সব টাকাই হুন্ডির মাধ্যমে আদান প্রদান হয়ে থাকে। হুন্ডি ছাড়া এ দু’টি ব্যবসা হওয়া সম্ভব নয়। টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি ব্যবসা করে থাকে। এ ব্যবসার সাথে জড়িতরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। জানা গেছে, মানবপাচার শুরু হয় ২০০০ সাল থেকে।
