৬দিনেও উদ্ধার হয়নি ‘জাবালে নূর’: লুট হচ্ছে জাহাজের মালামাল

আপডেট : ০৮ মে ২০১৫, ১৮:২২
সুন্দরবনের ভোলা নদীতে গত রবিবার সারবাহী জাহাজ ডুবির ঘটনায় গঠিত বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের তদন্ত কমিটি শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ড. সুনীল কুমার কুন্ডুসহ দলের সাত সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। তারা সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কিছু আলামত সংগ্রহ করেছেন।
 
এদিকে, ডুবে যাওয়া রাসায়নিক সারবাহী (এমওপি/পটাশ) জাহাজ ‘জাবালে নূর’ পাঁচ দিনেও উদ্ধার সম্ভব হয়নি। জোয়ারের সময় অতিমাত্রায় স্রোত আর ভাটির সময় পানি কম থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বনবিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
 
তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ড. সুনীল কুমার কুন্ডু বলেন, ডুবে যাওয়া জাহাজটি কীভাবে উদ্ধার করা হবে তা জেলা প্রশাসন নির্ধারণ করবে।  জাহাজের মধ্যে কিছু পরিমাণ সার রয়েছে তা পলিতে আটকে গেছে। এখন আর পানিতে ছড়াচ্ছে না। পটাশ সার পানিতে সহজেই দ্রবীভূত হয়ে যায়। এটি জলজ প্রাণীর জন্য মোটেই ক্ষতিকারক নয়। তিনি আরো জানান, জাহাজ ডুবির কারণে ওই স্থানে পলি জমে উঁচু হচ্ছে। এটি দ্রুত উদ্ধার না হলে পলি জমা হয়ে ধীরে ধীরে ওই নৌ-চ্যানেলটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বনবিভাগের পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা হয়েছে।
 
বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা অঞ্চলের ডেপুটি ডাইরেক্টর মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘জাহাজটির মাঝখান থেকে একেবারে তলা পর্যন্ত ফেটে গেছে। জাহাজ চলাচলের মূল চ্যানেল থেকে ডুবে যাওয়া জাহাজটির দূরত্ব প্রায় দুই হাজার ফুট। সেখানে ভাটির সময় পানি থাকে মাত্র ৩-৪ ফুট। আর জোয়ারের সময় সেটি তলিয়ে থাকায় এবং প্রচণ্ড স্রোতের কারণে আমাদের উদ্ধারকারী জাহাজ তার কাছাকাছি যেতে পারছে না।’ IMG0
 
তিনি আরো বলেন, জাহাজের মালিকের চাচা নূরূল হক তাকে জানিয়েছে; তারা ডুবুরিদের সাথে যোগাযোগ করে জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধারকাজে সার্বিক সহযোগিতা করবে।’’
 
বিআইডব্লিউটিএ’র ওই কর্মকর্তার অভিযোগ, জাহাজের বডি খুবই পুরনো। এককথায় বডি ফিটনেস একেবারেই নাজুক। এ কারণেই মাঝখান থেকে তলা পর্যন্ত ফেটে গেছে। ইতিমধ্যে জাহাজের ৫০ ভাগ সার বিভিন্নভাবে সরে গেছে।
 
জাহাজে থাকা অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেল ও বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল বেহাত হয়ে গেছে বলে তিনি ধারনা করছেন।
 
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ অতুল মন্ডল জানান, প্রথমদিকে দুইটি ড্রেজার নিয়ে সার অপসারণের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। এখন আরেকটু উন্নত প্রযুক্তির ড্রেজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। জাহাজটি দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে ওই নৌ-চ্যানেলের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
 
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামাল আহমেদ জানান, এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে বনবিভাগের পক্ষ থেকে বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় মামলা হয়েছে। এতে জাহাজের মালিক আমিনুল ইসলাম বাবুল, জাহাজ মাষ্টার আবিজুর রহমান ও চালক ফয়েজের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
 
জাহাজের মালিক আমিনুল ইসলাম বাবুল জানান, জাহাজটি উদ্ধারের ব্যাপারে আগামীকাল শনিবার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইতোমধ্যে কথা হয়েছে ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের ডুবুরি দলের সঙ্গে। জাহাজ ডুবিতে তার প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।