এবার দীর্ঘ হরতাল-অবরোধের কারণে পর্যটকরা ছিলেন এমনিতেই ত্যাক্ত-বিরক্ত। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সিলেটসহ সারাদেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো হয়ে পড়ে জনশূন্য। পর্যটন মৌসুম শীতকালটা এমনিতেই শেষ হয়ে যায় হরতাল-অবরোধে। বহু প্রতীক্ষিত সময়টা উপভোগ হয়নি পর্যটকদের। প্রকৃতিপ্রেমী বেশিরভাগ মানুষের আকর্ষণ শীতকাল। শীতে ঘুরতে সুবিধা বেশি। এবার শীতকালটা হয়ে পড়ে বৈরী। সেটা প্রাকৃতিক করণে নয়, ছিল রাজনৈতিক কারণ। এরপরও মার্চের শেষদিকে এপ্রিলের শুরুতে কিছু পর্যটক ছুটে আসেন সিলেটের পর্যটন এলাকাগুলোতে।
দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নিকট সিলেটের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে হযরত শাহজালাল (র:) ও হযরত শাহপরান (র:)-এর মাজার। প্রকৃতি কন্যা জাফলং, মাধবকুণ্ড, পাহাড়, ঝর্ণাসহ সিলেটের নয়নাভিরাম চা-বাগান, বিশাল হাওর, পানির নীচে সাদা বোল্ডার পাথর, বন-বনানীসহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদ দেখতে আসেন তারা। কিন্তু বিধিবাম কিছুদিন যেতে না যেতে শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি। সেই সাথে রাস্তা-ঘাটের অবস্থাও করুণ আকার ধারণ করেছে। আনন্দে আবার ভাটা। বিশেষ করে সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা রাস্থাগুলো হয়ে উঠেছে আরো বিপদসংকুল। পর্যটকরা ত্যাক্ত বিরক্ত। স্থানে স্থানে ভাঙ্গা সড়কে যানবাহন আটকা পড়ে। রোদ উঠলে এসব সড়কের ধূলায় মানুষ অতিষ্ঠ। সারি সারি চা বাগান, উঁচু নিচু পাহাড় টিলা, গহীন অরণ্য ও ঝর্ণা ধারা দেখার স্বাদটি তেতো হয়ে উঠেছে পর্যটকদের।
সিলেট-জাফলং-তামাবিল প্রায় ৫৮ কিলোমিটার সড়কের দেখভালের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথের। কিন্তু সড়ক মেরামতের পরই ভেঙ্গে যাচ্ছে জানিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা বলেন, এই সড়ক দিয়ে ১৫ টন মালামাল পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সারা বছর এ পথে ২৫-৪০ টন পাথর পরিবহন করা হয়। এতে সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সওজ সূত্র জানায়, জৈন্তা উপজেলার সারীঘাট এলাকার ৪০০ মিটার সড়কে সংস্কার চলছে। কর্মকর্তারা জানান, আগামী শুষ্ক মৌসুমে ১৫-১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভারি যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণে না আসলে আবার তা ভেঙ্গে যাবে।
