যে কারণে জিমেইল এত জনপ্রিয়

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২০:২৫

দেখতে দেখতে পথচলার এক দশক পূর্ণ করল ইমেইল সেবার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম জিমেইল। গুগলের এই ইমেইল সেবাটি নিঃসন্দেহেই বিশ্বব্যাপী অন্যতম জনপ্রিয় একটি ইমেইল সেবা। শুরু থেকে আজ অবধি এই সেবাকে জনপ্রিয় করে তুলতে নানা সময়ে নানা ফিচার যুক্ত করেছে এতে। তাতে এর জনপ্রিয়তা সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে। জিমেইলের এমন অনেক ফিচারই রয়েছে যেগুলো সচরাচর অনেকেরই নজর এড়িয়ে যায়।

 

অনলাইন স্টোরেজ

জিমেইলের মাধ্যমেই প্রথম কোনো ইমেইল সেবাতে ১ গিগাবাইট অনলাইন স্টোরেজ নিয়ে আসে গুগল। ওই সময়ে কোনো ইমেইল সেবাতেই কয়েক মেগাবাইটের বেশি অনলাইন স্টোরেজ সুবিধা ছিল না। সময়ের সাথে সাথে গুগল নিজেই এই স্টোরেজ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন জিমেইল, গুগল ড্রাইভ, গুগল প্লাস ফটো প্রভৃতি সেবা মিলিয়ে ১৫ গিগাবাইট অনলাইন স্টোরেজ পাওয়া যায়।

 

সার্চ সুবিধা

সাধারণভাবে গুগলের যাত্রার শুরুটাই সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে। পরে গুগল জিমেইলেও নিয়ে আসে সার্চ সুবিধা। এর মাধ্যমে জিমেইলে আদান-প্রদান করা যেকোনো ইমেইল খুঁজে বের করা যায় সহজেই। জিমেইলের পরে আরও অনেক ইমেইলেই এই সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

 

ইমেইল ফেরত আনা

সাধারণভাবে কোনো ইমেইল একবার পাঠিয়ে দিলে আর তাকে ফেরানো যায় না। তবে জিমেইল ভুলে পাঠানো ইমেইলকে ফেরত আনার ফিচার চালু করে তাক লাগিয়ে দেয়। জিমেইল থেকে পাঠানো কোনো ইমেইল সেন্ড করার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ‘আনসেন্ড’ করতে পারলে সেই ইমেইলটি আর পৌঁছাবে না গন্তব্যে।

 

থ্রেডেড কনভারসেশন

২০০৪ সালে থ্রেডেড কনভারসেশন সুবিধা চালু করা হয় জিমেইলে। কোনো ব্যক্তির সাথে কিংবা কোনো গ্রুপে এই ফিচারটি অনন্য হয়েই আসে জিমেইল ব্যবহারকারীদের কাছে। এটি নিয়ে অবশ্য সমালোচনাও রয়েছে। ২০১০ সালে এটি চালু বা বন্ধ রাখার অপশন চালু করে গুগল।

 

অফলাইনে জিমেইল

ইমেইল সেবা মানেই অনলাইন সেবা। তবে গুগল ক্রোমের একটি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে অফলাইনেও জিমেইল ব্যবহারের সুবিধা করে দেয় গুগল। এর মাধ্যমে অফলাইনে থাকলেও জিমেইলে আগত সব ইমেইল পড়া যায়। এমনকি অফলাইনে থাকা অবস্থায় ইমেইল তৈরি করেও রাখা যায়। অনলাইনে যাওয়া মাত্রই ওই ইমেইল পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং অফলাইনে থাকাকালীন আগত ইমেইলগুলোকে সিনক্রোনাইজ করে নেওয়া হয়।

 

জিমেইল ল্যাব

এটি ব্যবহার করে জিমেইলের বিভিন্ন ধরনের ফিচার সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে রাখা যায়। জিমেইল ল্যাবের মাধ্যমেই জিমেইলের ফিচারগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়।

 

শ্রেণিবদ্ধ ইনবক্স

জিমেইলে আগত বিভিন্ন ইমেইলকে বাছাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনটি আলাদা শ্রেণীতে বিভক্ত করে দেয় জিমেইল। সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো থেকে আগত ইমেইলকে এক শ্রেণীতে, বিভিন্ন অনলাইন প্রচারণা ও অফারের ইমেইলকে একটি শ্রেণীতে এবং বাকি ইমেইলগুলোকে আরেকটি শ্রেণীতে আলাদা করে দেয় জিমেইল।

 

জিমেইল ভয়েস

গুগল টকের মতো জিমেইল ব্যবহার করেই ভয়েস কল সম্পন্ন করার সুবিধা রয়েছে। কোনো জিমেইল ব্যবহারকারী অনলাইনে থাকলে জিমেইল থেকে ‘কল’ বাটন ব্যবহার করেই তার সাথে এই যোগাযোগ করা যায়।

 

ভয়েসমেইল

জিমেইল ব্যবহার করে সাধারণ ইমেইলই শুধু নয়, ভয়েসমেইল করার সুবিধাও রয়েছে। কোনো জিমেইল ব্যবহারকারী অফলাইনে থাকলে তাকে এই ভয়েসমেইল পাঠানো যায়। ওই গ্রাহক অনলাইনে এলেই তার কাছে পৌঁছে যায় এই ভয়েসমেইল।