বাংলাদেশের নখদন্তহীন বোলিংয়ের সুযোগে রান চূড়ায় উঠে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। হ্যামিল্টন টেস্টটাও বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। হ্যামিল্টনে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছে আরেকটি ইনিংস ব্যবধানে হার।
দুই ওপেনারের সেঞ্চুরির পর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৭১৫ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। ৪৮১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের তুলনায় কিছুটা সুস্থির হলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের প্রতিরোধ ভাঙছে প্রতিনিয়তই। দুই ইনিংসেই তামিম ইকবাল জ্বালিয়েছেন আশার সলতে।
শর্ট বল, বাউন্সারেই তামিমদের ঘায়েলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। নেইল ওয়াগনার, টিম সাউদি ক্রমাগত শরীর তাক করে বোলিং করে গেছেন। তাতে সফলতাও মিলেছে। গতকাল ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ চার উইকেটে ১৭৪ রান। সৌম্য সরকার ৩৯, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। ইনিংস হার এড়াতে আরও ৩০৭ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের। যা প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যই বটে।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্টে এটি তৃতীয়বার ৭০০ রান করলো প্রতিপক্ষ দল। আগের দুইবার করেছিল শ্রীলঙ্কা। ২০১৪ সালে মিরপুরে ৬ উইকেটে ৭৩০ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল লঙ্কানরা। ওই ম্যাচে ইনিংস ও ২৪৮ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে ৯ উইকেটে ৭১৩ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটি অবশ্য ড্র হয়েছিল। তবে দেশের বাইরে এই প্রথমবার ৭০০ রান হজম করলো বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে চা বিরতির আগে বিনা উইকেটে ৫৬ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তামিম-সাদমান ভালোই সামলেছেন কিউই বোলারদের। চা বিরতির পর দলীয় ৮৮ রানে ওয়াগনারের শর্ট বলে বোল্টের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান। তিনি ৩৭ রান করেন। বিদেশের মাটিতে মুমিনুলের রান খরা অব্যাহত আছে। ৮ রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন। ওয়ানডেতে জোড়া হাফ সেঞ্চুরি করা মিঠুন (০) এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ১১০ রানে তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশের ভরসা হয়েছিলেন তামিম।
ক্যারিয়ারের ২৬তম হাফ সেঞ্চুরি করা এই ওপেনার তিন অংকের ঘরের দিকেই হাঁটছিলেন। সাউদির শর্ট বল সামাল দিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যক্রমে ফিরতে হয় তামিমকে। ডাক করেছিলেন তামিম, কিন্তু বল তার ব্যাটের অগ্রভাগে লেগে উইকেটকিপারের গ্লাভসে জমা পড়ে। ৭৪ রান করেন তিনি। দিনের বাকি সময়ে আর বিপদ হতে দেননি সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ। উইকেটে এসে শুরুতে কিছুটা টালমাটাল সময় কাটলেও ৪৮ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন তারা। নিউজিল্যান্ডের বোল্ট দুটি, ওয়াগনার-সাউদি একটি করে উইকেট পান।
এর আগে গতকাল আরও দুই উইকেট হারিয়ে ২৬৪ রান যোগ করেছে নিউজিল্যান্ড। সকালে দ্রুতই ২০তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন উইলিয়ামসন। নাইটওয়াচম্যান ওয়াগনার ৪৭, ওয়াটলিং ৩১ রান করেন। সপ্তম উইকেটে উইলিয়ামসন-গ্র্যান্ডহোমের ১১০ রানের জুটিতে প্রথমবার টেস্টে ৭০০ রান পার হয় নিউজিল্যান্ড। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেন কিউই অধিনায়ক। ২৫৭ বলে ১৯টি চারে অপরাজিত ২০০ রান করেন তিনি। গ্র্যান্ডহোম ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের সৌম্য-মিরাজ দুটি করে, এবাদত-মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট পান।
হ্যামিল্টনে বোল্ট-সাউদি-ওয়াগনারদের সামনে আজ চতুর্থ দিনে সৌম্য-মাহমুদউল্লাহদের প্রতিরোধ কতক্ষণ স্থায়ী হবে বলা কঠিন। তবে ম্যাচের আবহ বলছে, ইনিংস হারের দুয়ারেই আছে বাংলাদেশ।
স্কোর কার্ড (তৃতীয় দিন শেষে)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৩৪/১০ ৫৯.২ ওভার (তামিম ১২৬, লিটন ২৯, সাদমান ২৪, ওয়াগনার ৫/৪৭)।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস (আগের দিন) ৪৫১/৪, ১১৮ ওভার, উইলিয়ামসন ৯৩*, ওয়াগনার ১* :
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছক্কা
কেন উইলিয়ামসন অপরাজিত ২০০ ২৫৭ ১৯ ০
নিল ওয়াগনার ক লিটন ব এবাদত ৪৭ ৩৫ ৬ ৩
বিজে ওয়াটলিং ক লিটন ব মিরাজ ৩১ ৬৭ ২ ০
কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম অপরাজিত ৭৬ ৫৩ ৪ ৫
অতিরিক্ত ১১ (লে বা- ৭, নো-২,
ও-২)
মোট ৭১৫/৬, ডিক্লেয়ার, ১৬৩ ওভার
উইকেট পতন :
১/২৫৪ (রাভাল), ২/৩৩৩ (লাথাম), ৩/৩৪৯ (টেইলর), ৪/৪৪৯ (নিকোলস, ৫/৫০৯ (ওয়াগনার), ৬/৬০৫ (ওয়াটলিং)।
বাংলাদেশ বোলিং :
জায়েদ : ৩০-৫-১০৩-০, এবাদত : ২৭-৪-১০৭-১ (ও-১, নো-১), খালেদ : ৩০-৬-১৪৯-০ (নো-১), সৌম্য : ২১-১-৬৮-২ (ও-১), মিরাজ : ৪৯-২-২৪৬-২, মাহমুদউল্লাহ : ১-০-৩-১, মুমিনুল : ৫-০-৩২-০।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছক্কা
তামিম ক ওয়াটলিং ব সাউদি ৭৪ ৮৬ ১২ ১
সাদমান ক বোল্ট ব ওয়াগনার ৩৭ ৭১ ৫ ০
মুমিনুল হক ক টেলর ব বোল্ট ৮ ৬ ২ ০
মিথুন ক উইলিয়ামসন ব বোল্ট ০ ৪ ০ ০
সৌম্য সরকার ব্যাটিং ৩৯ ৫১ ৬ ১
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ব্যাটিং ১৫ ৪০ ৩ ০
অতিরিক্ত ১ (ও-১)
মোট ১৭৪/৪, ৪৩ ওভার
উইকেট পতন :
১/৮৮ (সাদমান), ২/১০০ (মুমিনুল), ৩/১১০ (মিথুন), ৪/১২৬ (তামিম)
নিউজিল্যান্ড বোলিং : বোল্ট :১১-১-৫৩-২, সাউদি : ১৩-২-৫৪-১, গ্র্যান্ডহোম : ৫-১-১৫-০, ওয়াগনার : ১২-২-৪৮-১ (ও-১), অ্যাস্টল : ২-১-৪-০
