উখিয়ায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে উপকূলীয় এলাকার শীর্ষ মানব পাচারকারী জাফর আলম (৩৮) নিহত হয়েছেন। এ সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে ডিবি পুলিশের ২ সদস্য আহত হয়েছে। গত শনিবার রাত ২টার দিকে সোনারপাড়া মেরিন ড্রাইভের পার্শ্বস্থ সি বিচ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, ২টি তাজা কার্তুজ, ৩টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করে।
জানা গেছে, জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া গ্রামের জহির আহমদের ছেলে জাফর আলম শনিবার রাত ২টার দিকে সাগরপথে পাচারের জন্য মেরিন ড্রাইভের পার্শ্বস্থ সোনারপাড়া বিচ এলাকায় মানব পাচারকারীদের আস্তানা ঝুঁপড়ি ঘরে অবস্থান করছিলেন। গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের একটি দল উক্ত এলাকায় হানা দিলে মানব পাচারকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি বর্ষণ করলে জাফর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ডিবি পুলিশের কনস্টেবল হালিম (২৭) ও আনসার সদস্য মনিরুল ইসলাম (৩০) আহত হন। গুলিবিদ্ধ জাফর আলমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ২ কনস্টেবলকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কক্সবাজার ডিবি পুলিশের ওসি দেওয়ান আবুল হোছেন জানান, ঘটনাস্থলে পাচারকারীরা প্রায় ১১ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করলে জবাবে পুলিশও ১৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে গুলি, পাল্টা-গুলি বর্ষণের ঘটনায় অন্যান্য পাচারকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। নিহত জাফর আলমের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় ইতিপূর্বে একটি মানব পাচার মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে এলাকার শীর্ষ মানব পাচারকারী, একাধিক মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি জাফর আলম নিহত হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম খান জানান, ২০১২ সাল থেকে উখিয়া থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে প্রায় ৪৫টি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে শীর্ষ মানব পাচারকারীর সংখ্যা ১৪ জন। প্রায় আড়াই শতাধিক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ প্রায় ২৫ জন মানব পাচারকারীকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
