জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে টায়ারে আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ-মিছিল করে তারা। এ সময় তারা কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করে। বেলা ২.৪৫ টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জনবহুল এ সড়ক অবোরধ করে রেখেছে তারা। এ সময় রাস্তার দুই পাশে ব্যাপক যানজোটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তীতে পড়ে যাত্রীরা।
শনিবার রাতে ঢাকার উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাকিব আহমেদকে মারধরে করে পুলিশ সার্জেন্ট ইমরান ও তার সহকারীরা।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমরানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের জানিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা। তবে তাকে স্থায়ী বরখাস্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে পুলিশ সার্জেন্ট ইমরানের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজারা ইসলামের সঙ্গে দেখা করেছে শিক্ষক সমিতি। বেলা ২টার দিকে সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে তারা দেখা করেন। এর আগে সমিতির কার্যনির্বাহী জরুরী সভায় সোমবার মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
অন্যদিকে শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মূল অভিযুক্ত ইমরান ও তার সহকারীদের চাকুরি থেকে বরখাস্ত এবং বিভাগীয় ও দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী শাস্তিবিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান তারা।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা জানান, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি শান্ত হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার রাত দশটার দিকে সিলেট যাওয়ার জন্য জাবি শিক্ষক রাকিব আহমেদ তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে যাচ্ছিলেন। উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় পৌঁছালে ইমরান নামে ট্রাফিক পুলিশের একজন সার্জেন্ট গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র দেখেন। কাগজপত্র হাতে নেওয়ার পর সার্জেন্ট ইমরান গাড়ি জব্দ করেন।
এমন পরিস্থিতিতে রাকিব তাকে অনুরোধ করে জানান, তিনি মা-বাবাসহ সিলেট যাচ্ছেন। ট্রেন ছেড়ে চলে যাবে। গাড়ির কাগজপত্র রেখে দিয়ে তাদের রেলস্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ করেন। তখন ওই কর্মকর্তা রাজি হচ্ছিলেন না। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে পরিচয় দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সার্জেন্ট ইমরান। এক পর্যায়ে কর্মকর্তা রাকিবের গলা চেপে ধরে পুলিশ বক্স নিয়ে যান।
