নড়াইলে গৃহবধূকে নির্যাতনকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ

আপডেট : ১১ মে ২০১৫, ১২:১১

নড়াইলে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে শ্বশুরবাড়ির লোকদের নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গ্রেপ্তারের বিষয়ে আগামী ১৮ মে জেলা প্রশাসক ও নড়াইলের লোহাগড়া থানার ওসিকে প্রতিবেদন দিতে এবং  নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর চিকিত্সা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 
গতকাল রবিবার একটি রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউমেন রাইটাস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করে।
 
আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। মনজিল মোরশেদ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেন দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত। 
 
রিট আবেদনের সঙ্গে কয়েকটি পত্রিকায় ওই নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুলিপিও যুক্ত করা হয়। প্রতিবেদগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালবরাত গ্রামে গৃহবধূ ববিতা খানমকে (২১) চুরির অভিযোগে গত ৩০ এপ্রিল গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটায় তার স্বামী শফিকুল শেখ, ভাসুর হাসান শেখ, শ্বশুর ছালাম শেখ, শাশুড়ি জিরিনসহ অন্যরা। এ ঘটনায় ববিতার মা খাদিজা বেগম গত ৫ মে লোহাগড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। গতকাল পর্যন্ত পুলিশ শফিকুলের চাচা হিরু মিয়াসহ (৩৮) দুজনকে গ্রেপ্তার করে ।
 

এদিকে কথিত চুরির অভিযোগে গৃহবধূ ববিতার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানোর ঘটনা ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো নড়েচড়ে বসেছে। নির্যাতিতা ববিতা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে রবিবার (১০ মে) বিকেলে তার পিতার বাড়িতে এড়েন্দা গ্রামে অবস্থান করছেন। তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার ববিতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে। এছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ববিতাকে নির্যাতনকারী আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।