ঘোড়ার গাড়িতে পদ্মা পার!

আপডেট : ১১ মে ২০১৫, ০৩:১০

অবিশ্বাস্য এবং অকল্পনীয় হলেও সত্য যে, একসময়ের প্রমত্ত পদ্মা পার হতে এখন আর নৌকা কিংবা লঞ্চের প্রয়োজন হয় না। ঘোড়ার গাড়ি অথবা পায়ে হেঁটেই পার হওয়া যায়। বেশিদিন আগের কথা নয়, স্রোতস্বিনী প্রমত্তা পদ্মার গর্জনে মাঝি-মাল্লারা সাহস পায়নি পদ্মার বুকে তার খেয়ানৌকা চালাতে, জেলে সাহস পায়নি তার মাছধরা নৌকা চালাতে। এমনকি অনেক সময় পদ্মার উঁচু ভয়ঙ্কর ঢেউ আর দানবীয় গর্জনের মুখে ফেরি এবং স্টিমারের মত ভারি নৌযানও চলতে সাহস পায়নি। শুধু তাই না, সে সময় পদ্মার বিশাল বড় বড় ঢেউ আর প্রচণ্ড স্রোতের গর্জনে পদ্মা পাড়ের মানুষ ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। অথচ কালের আবর্তনে সেই প্রমত্তা পদ্মা শুকিয়ে শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। গোটা পদ্মার বুকজুড়ে পড়েছে ধুধু বালুচর।

 
পাবনার বাংলাবাজার খেয়াঘাট হতে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ খেয়াঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর দূরত্ব প্রায় ৩ কি.মি.। ৪/৫ মাস আগেও পাবনা এবং কুষ্টিয়া জেলার হাজার হাজার মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই খেয়াঘাট থেকে নৌকাযোগে পদ্মা নদী পার হয়ে দুই জেলার অভ্যন্তরে যাতায়াত করেছেন। বিশেষ করে পাবনার মানুষ প্রতিদিন ওই ঘাট দিয়ে নৌকাযোগে পদ্মা নদী পার হয়ে শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি এবং কুষ্টিয়া শহরের অদূরে লালন শাহ’র মাজার দর্শনে গিয়েছেন। কিন্তু মাত্র ৪/৫ মাসের ব্যবধানে বিশাল পদ্মা শুকিয়ে ধুধু বালুচর জেগে ওঠায় নদী পার হতে কোন নৌকা লাগছে না।
 

সরেজমিনে দেখা যায়, ৩ কি.মি. দীর্ঘ এই পদ্মার বুকজুড়ে কেবল চর আর চর। শুধু নদীর দক্ষিণ প্রান্তে অর্থাত্ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির অদূরে রয়েছে মাত্র ২শ’ গজ শীর্ণকায় পদ্মা নদী, যা নৌকায় পার হতে লাগে মাত্র ৬/৭ মিনিট। এর বাইরে দীর্ঘ প্রায় ৩ কি.মি পদ্মার ধুধু বালুচর পার হতে হয় ঘোড়ার গাড়িতে, পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেল বা মোটরসাইকেল চালিয়ে।