ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন

আপডেট : ১১ মে ২০১৫, ০৩:২৮

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পংকজ শরন বলেছেন, ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী ছিটমলবাসীরা শিগগিরই  নাগরিকত্ব লাভের সুবিধা পাবেন। ভারতের লোকসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি বিলটি পাস হওয়ায়  দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। ছিটমহলবাসী এখন থেকে নতুন জীবন শুরু করবে। আমার বিশ্বাস শান্তিপূর্ণভাবে দু’দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

 
স্থল সীমান্ত চুক্তি বিলটি পাস হওয়ার তিনদিন পর গতকাল রবিবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন মাদ্রাসা মাঠে ছিটমহলবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে ভারতের হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
 
মতবিনিময়কালে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলটি হলো সবচেয়ে বড়। এজন্যই আমি প্রথমেই এখানে এসেছি। পর্যায়ক্রমে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার অভ্যন্তরে থাকা ছিটগুলোতেও একইভাবে মতবিনিময় করা হবে। আপনাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনলাম। সে কথা উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হবে।
 
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশের সরকার দায়িত্ব নিয়ে একসঙ্গে ছিটবাসীদের উন্নয়নে কাজ করবে। আমি বিশ্বাস করি আপনারা শান্তিপ্রিয় মানুষ, আপনারা আইনের শাসন মানেন। আগামীতেও সেভাবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করবেন।
 

ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ভারতের সাহেবগঞ্জ সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত সাহেবগঞ্জ ছিটমহলবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন, এসময়টি ছিটমহলবাসীর জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সবাই নতুন জীবনের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। এই আনন্দ যেন কোন অশুভ চক্রের প্রভাবে বিষাদে পরিণত না হয়। তিনি আরো বলেন, ছিটমহলবাসী দীর্ঘকাল থেকে অনেক কষ্ট, লাঞ্ছনা ও দুঃখ সহ্য করেছে। এখন থেকে আর তাদের কষ্ট সহ্য করতে হবে না। ছোট ছোট শিশুরা উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ লাভ করতে পারবে। তিনি এসময় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, ভারত বাংলাদেশ সবচেয়ে নিকটতম বন্ধু প্রতীম দু’টি দেশ। সবসময় একসাথে থাকতে হবে এবং সকল সমস্যার সমাধান একসাথে করতে হবে।