সুন্দরবনের নন্দবালা খালে র্যাব-৮ ও বনদস্যু মাইঝ্যা বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ দুই দস্যু নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহূত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। রবিবার ভোরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।
র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির জানান, নিহত দুজনই বনদস্যু ‘মাইঝ্যা বাহিনীর’ সদস্য। এরা হল মাইঝ্যা বাহিনীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ আলমগীর (৩৫) এবং সদস্য রিপন (৩০)।
ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একশ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওই র্যাব কর্মকর্তা জানান।
মেজর আদনান বলেন, মাইঝ্যা বাহিনীর সদস্যরা গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হারবাড়িয়া, ফেয়ারওয়ে বয়া এবং নন্দবালা খাল এলাকায় জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায় করে আসছে। এ বাহিনীর প্রধান ‘মাইঝ্যা’ তার সহযোগীদের নিয়ে ওই এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে র্যাব-৮ এর একটি দল সেখানে অভিযানে যায় বলে জানান আদনান। দস্যুরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি করে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলির পর দস্যুরা বনের গহীনে চলে গেলে র্যাব সেখানে দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়।
পরে সুন্দরবনের জেলে ও বাওয়ালীরা নিহত দুজনকে মাইঝ্যা বাহিনীর সদস্য বলে শনাক্ত করে বলে মেজর আদনান জানান।
র্যাব লাশ দুটি দুপুর ১২টার দিকে মংলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। মংলা থানার ওসি বেলায়েত হোসেন জানান, এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত দুজনের পুরো পরিচয় জানাতে পারেনি থানা পুলিশ।
