জমির মালিকানা নিয়ে দুশ্চিন্তা

আপডেট : ১২ মে ২০১৫, ০০:৩৭

দীর্ঘদিন পর শৃঙ্খলমুক্ত হতে চলেছে ছিটমহলবাসী। বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি তাদের মধ্যে নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে। কিন্তু এখন তাদের প্রধান সমস্যা জমির মালিকানা নিয়ে।

 
বর্তমানে ১১১টি ছিটমহলের বেশিরভাগ বাসিন্দা জমি কিনে বসতবাড়ি গড়েছে। এদের অনেকেই নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ। তারা সব কিছু হারিয়ে কম দামে ছিটমহলে জমি কিনেছে। তারা এখন তাদের দখলে থাকা জমির মালিকানা নিয়ে সংশয়ে আছে। কারণ ছিটমহল বিনিময়ের পর তাদের সাদা কাগজে লেখা জমির মালিকানার স্বত্ব নাও টিকতে পারে।
 
তবে ছিটমহল নাগরিক কমিটির নেতারা বলছেন, এতে কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে না। যে যার অবস্থানে রয়েছে ছিটমহল বিনিময়ের পর তারা সেভাবেই জমির ভোগদখল করতে পারবে। ঐ অনুযায়ী জমির মালিকানা পাওয়া যাবে।
 
পঞ্চগড় জেলা সদরের অভ্যন্তরে ভারতীয় গারাতি ছিটমহলে গিয়ে দেখা গেছে, এই ছিটমহলে ৩৭০টি পরিবার বাস করে। এদের মধ্যে ছিটমহলের আদি বাসিন্দা মাত্র ১৪/১৫টি পরিবার। ছিটমহল সৃষ্টির পর বাকি পরিবার জমি কিনে এখানকার বাসিন্দা হয়েছে। কথা হয় পূর্ব শালবাগান গ্রামের নোমান আখন্দের সাথে। তিনি জানালেন, তার পৈতৃক ভিটা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায়। নদী ভাঙ্গনে তার ভিটাবাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ায় ২৮ বছর আগে তিনি এখানে আসেন। নামমাত্র মূল্যে জমি ক্রয় করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। জমি কেনার সময় ছিটমহল নাগরিক কমিটির মাধ্যমে সাদা কাগজে সিল মেরে তাকে একটি কাগজ দেয়া হয়েছিল। এটাই তার জমির মালিকানার স্বত্ব। তার কাছে জমির কোন মূল দলিল নেই।
 
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ি থানা এলাকা থেকে স্বাধীনতার পরই বাংলাদেশে এসেছিলেন মরহুম আব্দুল গনি। তিনি এসে গারাতি ছিটমহলে কিছু জমি কিনে বসবাস করতে থাকেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছেলেরা ঐ জমিতে থাকতেন।
 
পঞ্চগড় জেলা সদরের হাফিজাবাদ ইউনিয়নের টোকাপাড়া গ্রামের অধিবাসী শাহ আলম মেম্বার। ছিটমহলে তার প্রায় ১২০ বিঘা জমি রয়েছে। আগে ছিটমহলে তার বাড়ি ছিল।  কিন্তু কয়েক বছর আগে তিনি ছিটমহলের বাড়ি ভেঙ্গে বাংলাদেশি এলাকায় বাড়ি করেন। গারাতি ছিটমহলের নাগরিক কমিটির স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তিনি জমি ক্রয় করেন। সেই স্ট্যাম্পে লেখা রয়েছে, ৭৮নং গাড়াতি সর্বমঙ্গল কমিটি দলিল সত্যায়ন বিভাগ এবং ঠিকানা লেখা রয়েছে গাড়াতি, থানা- হলদিবাড়ি, জেলা-কুচবিহার।
 
এ ব্যাপারে গারাতি ছিটমহলের চেয়ারম্যান মফিজার রহমান বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের পর জমির মালিকানা নিয়ে কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে না। কারণ ছিটমহলের সকল জমির মালিক রয়েছেন। ছিটমহল বিনিময়ের পর যার যার পজিশন অনুযায়ী জমি রেকর্ড হবে। কারো জমির কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকলে তাদের বিষয়টি ছিটমহল পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে।
 
বর্তমানে পঞ্চগড়ে অবস্থিত ৩৬টি ভারতীয় ছিটমহলের অনেক জমির মালিকই বাংলাদেশের নাগরিক। তারা ছিটমহলে নাগরিক কমিটির স্ট্যাম্পে জমি কেনার পর ছিটমহলের নাগরিকও হয়ে গেছেন।
 
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি ভারত শাখার সাধারণ সম্পাদক দিপ্তীমান সেনগুপ্তের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চূড়ান্তভাবে ছিটমহল বিনিময়ের ঘোষণা দেয়ার পর উভয় দেশের মধ্যে ভলিউম বুক ট্রান্সফার হবে। এতে করে তেমন একটা জটিলতা সৃষ্টি হবে না।
 

পঞ্চগড় সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইলিয়াস মেহেদী বলেন, ‘ছিটমহল বিনিময় চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী যেভাবে কাজ করার নির্দেশ আসবে আমরা সেভাবে কাজ করব। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন নির্দেশনা আসেনি। এ কারণে ছিটমহল বিনিময় না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’