‘ইলিয়াস-আলমদের খোঁজ খালেদা জিয়াই বলতে পারবেন’

আপডেট : ১৩ মে ২০১৫, ১৯:০৩
 
 
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদের খোঁজ পাওয়ার মাধ্যমে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ নিখোঁজদের দায়-দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়। শিলংয়ে না দার্জিলিংয়ে, নেপালে না ভুটানে—কোথায় তাদের আত্মগোপন রাখা হয়েছে, তা খালেদা জিয়াই বলতে পারবেন।’ 
 
বুধবার রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
 
সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়—আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস না। এ আত্মগোপন দলের নির্দেশে হতে পারে, দলীয় নেতার নির্দেশে হতে পারে। রাজনৈতিক কারণেও হতে পারে। তবে এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে—আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশে করা হয়েছে। আত্মগোপন করে সরকারকে গুমের অপরাধে অপরাধী করাটা অত্যন্ত শঠতাপূর্ণ রাজনীতি। এটি আক্রোশ, বিদ্বেষমূলক ও অপরাজনীতি। খালেদা জিয়া এবং তার দল এর সঙ্গে জড়িত।’
 
সুরঞ্জিত বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিরোধীদল অনিবার্য। বিরোধীদল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। তারা কেউ গুম হয়ে যান, অন্তর্ধান হয়ে যান—এটা কারো কাছে কাম্য নয়। রাজনীতি মানবিক। সালাহউদ্দিন আহমদের অন্তর্ধান আমাদেরকে মর্মাহত করেছিল।’
 
সিলেটের ব্লগার হত্যা প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, একের পর এক ব্লগার হত্যা হচ্ছে। তাদের হত্যার ধরন একই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হত্যাকারীরা কেউ ধরা পড়েনি। আমি মনে করি—আমাদের দেশের পুলিশ অন্য যেকোনো দেশের পুলিশের চেয়ে ভালো। তারা যদি মনে করে কোনো অপরাধীকে ধরবে তাহলে ধরতে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে—তারা এই অপরাধীদের ধরতে চাচ্ছেন না বলে ধরা পড়ছে না। এর পরিণতি শুভ হবে না।’
 
ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত বলেন, ‘বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। এর প্রতিবাদে কর্মসূচিকালে যেভাবে মেয়েটিকে গাছের আশ্রয় থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনা হলো, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যকে ম্লান করেছে। শুধু একজন পুলিশকে সাসপেন্ড করে বসে থাকলে যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উচ্চতর কমিটি গঠন করে আরো অগ্রসর হওয়া উচিত।’
 
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক নারায়ণ দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাম্যবাদী দলের নেতা হারুন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানু, সংগঠনের নেতা হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ বক্তব্য দেন।