রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব ছয়দিনেও নির্ধারিত হয়নি। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নাকি বিএনপিপন্থি কাউন্সিলর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব নেবেন? এনিয়ে উভয় পক্ষের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরভবনে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, নাশকতা ও পুলিশ হত্যাসহ একাধিক মামলায় আদালত চার্জশিট গ্রহণ করায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে রাসিক মেয়রের পদ থেকে গত ৭ মে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মূলত এরপর থেকেই সৃষ্ট ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার নিয়ে নানা গুঞ্জন ছাপিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
রাসিক সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী; মেয়রের অবর্তমানে তিনজন প্যানেল মেয়রের মধ্যে থেকে একজন (পদের ক্রমানুসারে) দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। কিন্তু রাসিকের মেয়র এবং তিনজন প্যানেল মেয়রের সকলেই বিএনপির নেতা হওয়ায় জট বেঁধেছে। সূত্র মতে, প্যানেল মেয়র-১ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন আজব মেয়রের সঙ্গে একই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী। তিনি বর্তমানে নাশকতার মামলায় কারাগারে রয়েছেন। প্যানেল মেয়র-২ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টিটো একই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। গ্রেফতার এড়াতে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। প্যানেল মেয়র-৩ ও সংরক্ষিত নয় নম্বর জোনের কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম দায়িত্ব গ্রহণে প্রস্তুত থাকলেও তাকে দায়িত্ব না দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপির নেত্রী ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম পাঁচদিন চুপচাপ থাকলেও গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য নিজের প্যাডে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি ওই চিঠির একটি কপি রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরেও দিয়েছেন। এছাড়া গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও তিন নম্বর প্যানেল মেয়র নুরুন্নাহার বেগমকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার অর্পণের জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার বিএনপির অনুসারী প্যানেল মেয়রদের দেয়া হলে পরোক্ষভাবে মেয়র বুলবুলের হাতেই ক্ষমতা থাকছে মনে করে আপত্তি তুলেছেন আওয়ামী লীগপন্থি কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ এবং স্থানীয় সাংসদদের পক্ষ থেকেও বিএনপিপন্থি কোনো কাউন্সিলর যেন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দাত্বিভার গ্রহণ করতে না পারেন, সে জন্য স্থানীয় সকার মন্ত্রণালয়ে তদবির চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে প্যানেল মেয়র না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য দৌঁড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগপন্থি দুইজন কাউন্সিলর। এরা হলেন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ সরকার টেকন। তবে বুধবার অফিস সময় পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বভার নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়নি। বরং আগের দিন মঙ্গলবার দায়িত্বভার চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর তিন নম্বর প্যানেল মেয়র নুরুন্নাহার বেগমের চিঠি নাটকীয়তার সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু বলেন, ‘আমি ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার পেতে ইচ্ছুক। তবে এখনো এই ধরনের কোনো চিঠি মন্ত্রণালয় বা রাসিক থেকে পাইনি।’ অপর কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকার টেকন বলেন, ‘সরকার আমাকে দায়িত্বভার দিলে আমার অভিজ্ঞতার আলোকে রাজশাহীর উন্নয়ন ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবো।’ তিন নম্বর প্যানেল মেয়র নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমিই ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাব। এছাড়া মেয়র বুলবুল সাহেব আমাকে দায়িত্বভার দেয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠিও দিয়েছেন। কিন্তু তিনি আমাকে দায়িত্বভার দিচ্ছেন না। এ জন্য আমি দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছি।’
এ বিষয়ে মতামতের জন্য রাসিকের নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাকে মোবাইলে এমনকি ল্যান্ড ফোনেও পাওয়া যায়নি। নগরভবনে পুলিশ মোতায়েনের বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, গত সোমবার বকেয়া বেতন-ভাতার বিষয় নিয়ে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার পর সম্ভাব্য বড় ধরণের ঘটনা এড়াতে নগরভবনে পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
