আমরা বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের অশান্ত পরিবেশ লক্ষ্য করছি। মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক, ইরান, কাতার, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই আছে। আমরা যদি দক্ষিণ এশিয়ার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে জঙ্গিবাদের উত্থান। এমনকি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা বিদ্যমান আছে। উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র তৈরি নিয়ে সবসময় একটি খারাপ সময় পার করছে। বর্তমানে ভেনিজুয়েলায় গৃহযুদ্ধ বেধে আছে। সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অচল হয়ে আছে। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার সমস্যা সৃষ্টি হয়ে আছে।
এখন আসি আসল কথায়, আমরা জানি, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল জাতিসংঘ নামক প্রতিষ্ঠান। সদস্যভুক্ত দেশগুলোর শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এর মূল কাজ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। না হওয়ার নেপথ্যে কারণটা কী? কারণ, অবশ্যই আছে। জাতিসংঘের গঠনতন্ত্রের একটি বিষয় হলো পাঁচটি স্থায়ী রাষ্ট্র থাকবে। এরা আজীবন স্থায়ীভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে থাকবে। পাঁচটি রাষ্ট্রের চারটি রাষ্ট্রও যদি একটি বিষয়ে ভোট দেয়, আর মাত্র একটি রাষ্ট্র ভেটো প্রদান করে, তাহলেই বিলটি আর পাস হতে পারে না। সমস্যাটা মূলত এখানেই নিহিত। ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়ে দুটি রাষ্ট্র কথা বললে, বাকিরা বিপক্ষে বলে। তাই সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না। সিরিয়ার, কাতার, ইয়েমেনের ঘটনাগুলোরও একই হালত। কোনো পক্ষই একক সিদ্ধান্তে যেতে চায় না। বরং, নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য যে রাষ্ট্রের পক্ষ নেয়া উচিত, পাঁচ মোড়ল ঐ রাষ্ট্রগুলোর পাশে দাঁড়ায়। ফলে সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না।
বর্তমানের দুটি ঘটনার দিকে লক্ষ্য করলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে, ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে যুক্ত রাষ্ট্র সরাসরি এক পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। কারণ, সে পক্ষ ক্ষমতায় আসতে পারলে তাদের স্বার্থ উদ্ধার হবে। আবার, রাশিয়া, চীন এক পক্ষ নিয়ে শান্তির বুলি আওড়াচ্ছে। এখানে শান্তির কিছুই নেই, মূলে আছে, মোড়লদের স্বার্থ।
বাংলাদেশের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘে চীন সরকার ভেটো দিচ্ছে। তারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কারণ, মিয়ানমারের কাছে চীনের ব্যবসায়িক স্বার্থ নিহিত আছে। তাই, রোহিঙ্গা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একক কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছে না। সমস্যারও সমাধানও হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতি থেকে বিশ্বকে মুক্তি দেয়ার একটাই রাস্তা রয়েছে, সেটা হলো নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি ভেটো প্রদানকারী রাষ্ট্রের মেয়াদ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেঁধে দেয়া উচিত। প্রত্যেক চার বছর অথবা পাঁচ বছর অন্তর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটের মাধ্যমে পাঁচটি সদস্য দেশ নির্বাচন করা উচিত। তাহলেই হয়ত এই যুদ্ধবিধস্ত বিশ্বটাকে শান্তির পথে আনা সম্ভব হবে। আপনারা খেয়াল করে দেখুন, বিশ্বের প্রত্যকটা বিশৃঙ্খলার সঙ্গে পাঁচটি রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ যোগসাজশ আছে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
