মালয়েশিয়ার পেনাং উপকূলের কাছে সাগরে প্রায় ৫শ’ যাত্রীসহ একটি নৌকা দেখা গেছে। গতকাল বুধবার নৌকাটিতে যাত্রীদের গাদাগাদি করে থাকতে দেখা যায়। তবে তাদের মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তীরে ভিড়তে দেবে কি না সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গতকাল বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এদিকে এসব মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোকে তাদের সীমান্ত খুলে দেয়ার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নৌকাটিতে বাংলাদেশের নাগরিক ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা রয়েছেন। এদের মধ্যে ক্ষুধার্ত নারী ও শিশুরাও রয়েছে। বর্তমান অবস্থায় এসব মানুষের মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া আশ্রয় দিতে রাজি হচ্ছে না। মালয়েশিয়ায় মিয়ানমার এথনিক রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের প্রধান জাফর আহমেদ বলেন, আমরা নৌকায় থাকা মানুষের দুর্দশার কথা শুনেছি। তবে তাদের ভাগ্যে কি হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। এসব অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও আশ্রয় দেয়ার জন্য মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।
ক্রিস লেয়া নামের এক মানবাধিকার কর্মী বলেন, উপকূলে থাকা একটি নৌকার এক যাত্রীর সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলেছেন। ওই যাত্রী জানিয়েছেন, যাত্রীরা গত চারদিন ধরে খাবার ও পানি ছাড়া রয়েছে। তারা একটি টহল জাহাজ দেখেছে। তবে না থামিয়ে পাশ দিয়ে জাহাজটি চলে গেছে। তবে এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার একটি নৌকাকে তীরে ভিড়তে দেয়নি ইন্দোনেশিয়া। আর মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে তারা কোনো বিদেশি নৌকাকে তীরে ভিড়তে দেবে না। তবে যদি নৌকা ডুবে যায় সেক্ষেত্রে প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে নৌবাহিনীর সদস্যরা। ফলে মানব পাচারকারীরা ছেড়ে যাওয়ার পর এসব নৌকার যাত্রীরা অসহায় অবস্থায় সময় পার করছে। খাবার-দাবার, পানি সংকটের পাশাপাশি অনেকের জীবনও সংকটে রয়েছে।
এদিকে অবৈধ অভিবাসী সমস্যার সমাধানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসার কথা বলেছে মালয়েশিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল দাতুক আলউয়ি ইব্রাহিম বলেন, এভাবে অবৈধভাবে আসা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে। এ আলোচনায় থাইল্যান্ডকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এক হিসাবে বলা হচ্ছে, মালাক্কা প্রণালী ও এর আশপাশের জলসীমায় গত প্রায় দুই মাস ধরে চক্কর কাটছে ৬ হাজারের মতো লোক। যারা একটু ভালো কাজ ও অর্থের জন্য মালয়েশিয়ার উদ্দেশে জীবনকে বাজি রেখে সমুদ্রপথে যাত্রা করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছে, পাচারকারীদের ছেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু নৌযান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তীরে নামার চেষ্টা করবে। ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রায় ২ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে নৌকা থেকে উদ্ধার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিগগিরই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।