বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি-বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। এতে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনীতি গতিশীল হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিও হবে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়।’ বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ) অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে এ সব কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়—ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এ জন্য জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদান ২৬/২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩২ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—গেল ত্রৈমাসিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার ও বেসরকারি খাতের উদ্যোগের কারণে বর্তমানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন উত্সাহব্যঞ্জক। যদিও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে এখনো আশানুরূপ গতি দেখা যাচ্ছে না। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) দুর্বল বাস্তবায়ন অর্থনীতির জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ। তবে মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী। কৃষিতে সফলতা, রেমিট্যান্স আয় এবং গার্মেন্ট সেক্টরের মজুরি বাড়ায় গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো গতিশীল রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় সরকারের ভর্তুকির চাপ কমেছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগের সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
এমসিসিআই জানিয়েছে—গেল ত্রৈমাসিকে অনেক শিল্প ইউনিটই গ্যাস ও বিদ্যুতের স্বল্পতায় উত্পাদন কমিয়েছে। বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়লেও তা শিল্পের চাহিদার তুলনায় কম। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যুত্ ও গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে হবে। কারণ, বিনিয়োগ না বাড়লে মধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হতে কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে না। এ দিকে, গেল ত্রৈমাসিকে হরতাল অবরোধের কারণেও শিল্প উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশায় তুলনায় কম হয়েছে।
প্রবৃদ্ধি অর্জন বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বড় রকমের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই কিছু দাতা সংস্থা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশের মধ্যে হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের ঘোষিত ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে।
