শিক্ষা বিস্তার ও সংস্কৃতি বিকাশে পাথেয় হচ্ছে স্বকীয়তা: তাসমিমা হোসেন

আপডেট : ১৬ মে ২০১৫, ০০:১৮

দৈনিক ইত্তেফাকে’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও পাক্ষিক ‘অনন্যার’ সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, আমাদের শিক্ষা বিস্তার ও সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রে স্বকীয়তা হচ্ছে পাথেয়। নিজস্ব সংস্কৃতি লালনের মাধ্যমে ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে যেমন সুসভ্য করে তুলতে হবে পাশাপাশি সঠিক শিক্ষাদানই হবে সুনাগরিক তৈরির মূল ভিত্তি।

 
তিনি গতকাল শুক্রবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীরা অতীতের তুলনায় অনেক ভাগ্যবান। আমরা যখন লেখাপড়া করেছি তখন আজকের মত উপযোগী পরিবেশ ছিল না। ঘরে বসে হ্যারিকেনের আলোতে পড়তে হতো, স্কুল-কলেজের ক্যাম্পাস এতো চমত্কার ছিল না, সুযোগ-সুবিধা ছিল সীমিত। আজ বর্তমান সরকার ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করায় কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গৌরব ও অহংকারের সাথে মাথা উঁচু করে আগামী দিনের জীবন গঠন করতে হবে। মানুষের সাথে সদ্ভাব তৈরি, গুরুজন শিক্ষকদের সম্মান দেয়া, পরীক্ষায় নকল বর্জন, সর্বক্ষেত্রে মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসবই হচ্ছে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্য। আমাদের পাঠাগার স্থাপন করে বই পড়া, গল্প পড়া, বিশুদ্ধ উচ্চারণে কবিতা আবৃত্তি এসব সুকুমার বৃত্তি চর্চা করা আবশ্যক। সঠিক শিক্ষা হচ্ছে ভাষা শেখা, সংস্কৃতি লালন এবং কর্মমুখী জীবন প্রতিষ্ঠা। আজকাল লক্ষ্য করা যায় বাইরের সংস্কৃতির ডামাডোলে নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে– যা রোধ করা না গেলে বাঙালির অস্তিত্ব হারিয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে। নারী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তাসমিমা হোসেন বলেন, আমাকে কিছু শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব—নেপলিয়ানের সেই বিখ্যাত উক্তি আজ আমাদের দেশে অবশ্যই অনুকরণীয়। যদিও একদল মানুষ ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে নারী শিক্ষার বিরোধিতা করে, তারপরও শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি খুবই আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে সর্বক্ষেত্রে যে উন্নতির ধারা দৃশ্যমান তার অনেকটা এ অঞ্চলের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র হাতে সূচিত ও লালিত। আগামীতে উন্নয়নের এ ধারাকে ধরে রাখতে নতুন নেতৃত্বকে প্রস্তুত করে তুলতে হবে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পরিবার ও সমাজে জ্ঞাননির্ভর, দক্ষ ও সক্ষম  একটি উত্কর্ষ প্রজন্মের উম্মেষ ঘটাতে হবে– যা চিন্তায়-মননে-সংস্কৃতিতে সকলকে ধারণ করতে হবে।
 

কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোশাররফ হোসেন মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ফায়জুর রশীদ খসরু ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার। তাসমিমা হোসেন বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস, পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফজলে রব্বে, ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শহীদুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, থানার ওসি মোঃ কামরুজ্জামান, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন বাবু, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা জাহানারা বেগম, কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য হেমায়েতউদ্দিন রুস্তম মিয়া, মোঃ শাহ আলম, বিমান রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষার্থী, পিরোজপুর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও স্থানীয় শিল্পীরা গান-নাচ ও কবিতা পরিবেশন করেন। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।