নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির আলোচনা

তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের আহ্বান

আপডেট : ১৯ মে ২০১৫, ১৬:৫৭


আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি নিউইয়র্কের নেতৃবৃন্দ সার্কের চেতনায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস-এ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।

সংগঠনের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সালুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় গঙ্গা নদীর উজানে ভারত কর্তৃক নতুন ১৬টি ব্যারেজ নির্মানের কাজ হাতে নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধ করার জন্য এবং ভুমিকম্পপ্রবণ এলাকায় টিপাঁইমুখ বাধঁপ্রকল্প বন্ধেরও জোর দাবি জানানো হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক-এর সাবেক সভাপতি এম. এ আজিজ, সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, মুলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ স¤পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশন অব ইউএসএ-এর সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন, সংগঠনের সহ-সভাপতি আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, মুন্সীগজ্ঞ বিক্রমপুর এসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আমিন সিদ্দিক, লাগোর্ডিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি মো. তুহিন আলী প্রমূখ।
আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমানা বিষয়ক চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সেদেশের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করায় অভিনন্দন জানানো হয়। ৪১ বছর পরে হলেও সীমান্ত চুক্তি সফল পরিণতি লাভ করল। বাংলাদেশ এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা অনুমোদন করে। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানানো হয়। এছাড়া ছিটমহল সমস্যার সমাধানে দলমত নির্বিশেষে দু’দেশের বিবেকমান যারাই নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন তাদেরও আন্তর্জাতিক ধন্যবাদ জানানো সভা থেকে।

আলোচনা সভায় বক্তারা ফারাক্কা লংমার্চ আয়োজন করে সমগ্র জাতিকে পানি এবং পরিবেশের অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে তার অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিন্ন নদীগুলোর অব্যাহত প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য উক্ত সভা থেকে সবাইকে সচেষ্ট হবার আহবান জানানো হয়। অন্যথায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো শুকিয়ে এদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলবে বলে তারা উল্লেখ করেন।