খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ওইসব ঋণের ঝুঁকির বিপরীতে অর্থসংরক্ষণের (প্রভিশন বা সঞ্চিতি) ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন করার প্রয়োজন ছিল ৩০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় যা এক হাজার ৭১৯ কোটি টাকা বেশি। এ সময়ে ব্যাংকগুলো প্রভিশন রেখেছে ২৬ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। আগের প্রান্তিকে প্রভিশন ঘাটতি ছিল মাত্র ৭৯৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও প্রভিশনিং প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাঁচটি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে চার হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দুই হাজার ৭৪ কোটি টাকা আর বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি দুই হাজার ৪৩ কোটি টাকা। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৮৯ কোটি, কমার্স ব্যাংকের ১৮৪ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ১৮৩ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। মূলত এ পাঁচ ব্যাংকের ঘাটতির কারণে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে ঘাটতি বেড়ে গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে এসে খাত ভিত্তিতে বেসরকারি ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন উদ্বৃত্ত রয়েছে। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর ১২ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা প্রভিশন করার প্রয়োজন ছিল। তবে তাদের প্রভিশন রয়েছে ১২ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। এক হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজনের বিপরীতে এক হাজার ৬২০ কোটি টাকা প্রভিশন করেছে। বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় তিন হাজার ৭৪৩ কোটি টাকার বিপরীতে মাত্র এক হাজার ৪৭২ কোটি টাকা প্রভিশন করেছে। বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো আর বিদেশী ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত রয়েছে ৯৬ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, দেশের ব্যাংকগুলোকে ঋণের ঝুঁকি বিবেচনায় নির্দিষ্ট একটি অংশ প্রভিশন করতে হয়। ব্যাংকগুলোর মুনাফা থেকে প্রতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে যা রাখতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দিষ্ট হার ঠিক করে দিয়েছে। সে হিসাবে তিন মাসের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ (সাব স্ট্যান্ডার্ড/ নিম্নমান) ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ, ছয় মাসের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ (ডাউটফুল/সন্দেহজনক) ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং এক বছরের বেশি (ব্যাড-লস/ মন্দ) ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। ফলে খেলাপি ঋণ কমলে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমে। আর প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমলে ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়ে যায়।
