বিচিবিহীন আঙ্গুর চাষে বাংলাদেশের সাফল্য

আপডেট : ১৮ মে ২০১৫, ০০:০৩

বিশ্বের অন্যান দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও আঙ্গুর চাষ সম্ভব হচ্ছে। নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায়  মজলিশপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণার মাধ্যমে  বিচিবিহীন আঙ্গুর চাষে  সফলতা  আসছে।

 
৯০-এর দশকে গবেষকরা ১০০টি জাত নিয়ে গবেষণা করে সফলতা আনতে পারেনি দক্ষ জনবলের  অভাবে। ছাঁটাই পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত ফুল ফোটে এবং ফুল থেকে কুঁড়ি বের হয়। এতে সময়মত এঅ-৩  হরমুনিয়াম প্রয়োগ করলে বিচিবিহীন আঙ্গুর জন্মে বলে জানান শিবপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান  বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাঃ নাজিরুল ইসলাম। তিনি  জানান, সারা বছর আঙ্গুর জন্মে। শুষ্ক আবহাওয়ায় আঙ্গুর ভালো জন্মে। তবে অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত আঙ্গুরের ফলন ভালো হয়। আঙ্গুর গাছ সাধারণত  লতা জাতীয়। চারা রোপণের দেড় বছরের মধ্যে বিচিবিহীন আঙ্গুর ধরছে শিবপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে।
 
এক সময় বৈজ্ঞানিকরা বিচিবিহীন আঙ্গুর চাষে ব্যর্থ হয়ে মনে করতেন আমাদের দেশের আবহাওয়ায় বিচিবিহীন মিষ্টি আঙ্গুর জন্মাবে না। ডাঃ নাজিরুল ইসলাম বলেন, ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের পর দেশে এসে পুনরায় গবেষণার মাধ্যমে বিচিবিহীন আঙ্গুর চাষে  সফলতা পেয়েছি। আর হরমুনিয়ামের খরচ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১ গ্রাম এঅ-৩ হরমুনিয়ামের মূল্য ২৮,০০০/-টাকা, যা কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিলে ৫০০ হেক্টর জমিতে আঙ্গুর চাষ সম্ভব হবে। কৃষি গবেষণা  ইনস্টিটিউট  শিবপুরের আঞ্চলিক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজিরুল ইসলাম জানান, দেশে কৃষকরা আঙ্গুর চাষে আন্তরিক হলে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের আঙ্গুরের চাহিদা কোন একসময় দেশিয় আঙ্গুর সিংহভাগ পূরণ করবে।
 
আঙ্গুর কয়েক প্রজাতির হয়ে থাকে; কালো, সবুজ, বেগুনী। ধারণা করা যায়, কৃষি গবেষণার প্রচেষ্টায় যেভাবে মালটা, স্ট্রবেরি ইত্যাদির উন্নত বীজ  কিংবা জাত কৃষকদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটানোর চেষ্টা হচ্ছে, তেমনি আঙ্গুরের চাহিদা মিটাতেও সাধারণ কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও তাদের মাঝে বীজ রিতরণ করলে শিবপুরের কৃষকরা বিচিবিহীন আঙ্গুর চাষে উত্সাহিত অপরূপ সফলতা দেখাতে পারবেন।