পাকিস্তানের দুইশ’ ইসলামি চিন্তাবিদ এক আদেশ জারি করে বলেছেন, আত্মঘাতীয় বোমা হামলা ইসলাম সমর্থন করে না। রবিবার লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এই আদেশ জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খবর ডন’র।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইসলামিক স্টেট (আইএস), নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি), আল-কায়েদা, বোকো হারাম এবং তথাকথিত কিছু জিহাদি গোষ্ঠী ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। এই ধরনের গোষ্ঠী যে ধরনের আচরণ করছে তা সম্পূর্ণরুপে অনৈসলামিক। তাদের চিন্তা-ভাবনায় ভুল আছে। কারণ তারা স্বল্প জ্ঞান এবং অজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এই আদেশ গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন মাওলানা জিয়াউল হক নকসবন্দী। আদেশে বলা হয়, এসব জিহাদি গ্রুপগুলোর জিহাদের ঘোষণা সঠিক নয়। জিহাদ ঘোষণার আগে তাদের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে। এছাড়া সামপ্রদায়িক যে হত্যা চলছে তা ফ্যাসাদের পর্যায়ে পড়ে। সামপ্রদায়িকতার নামে হত্যাও ইসলামবিরোধী। একটি ইসলামিক সরকার এধরনের গ্রুপগুলোকে ভেঙ্গে দিতে বাধ্য। পোলিও টিকাদানকারী যেসব নারীকে হত্যা করা হচ্ছে তারা গুরুতর অপরাধী উল্লেখ করে আদেশে বলা হয়, যারা অমুসলিমদের প্রার্থণার স্থানে হামলা চালায় মহা পাপী, কারণ ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নিরাপত্তা দেয়া বাধ্যতামূলক। মাওলানা নকসবন্দী জানিয়েছেন, সম্মেলনে ওলামারা আগামী ২২ মে শুক্রবার ‘শান্তি ও ভালবাসা’ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই দিন আইনবিরোধী হত্যাকান্ডের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা চার লাখ মসজিদে নসিহত করবেন। এছাড়া আইএস এবং টিটিপি কর্তৃক ইসলামের ব্যাখার জবাব দিতে একটি ওলামা বোর্ডও গঠন করা হবে। তিনি জানান, ‘সন্ত্রাস নির্মূল কর এবং দেশকে নিরাপদ কর’ স্লোগানে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই আদেশের বিষয়ে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞদেরও জানানো হবে।
